লুইস সুয়ারেসের দুর্দান্ত দুই গোলে জয় নিয়ে ফিরল বার্সা

ম্যাচের প্রথম আক্রমণেই বার্সেলোনাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন লাউতারো মার্তিনেস। তবে দ্বিতীয়ার্ধের অদম্য বার্সেলোনার জবাব জানা ছিল না ইন্টার মিলানের। লুইস সুয়ারেসের দুর্দান্ত দুই গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা।

কাম্প নউয়ে বুধবার রাতে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা। জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে গোলশূন্য ড্রয়ে আসর শুরু করা কাতালান ক্লাবটির এটি প্রথম জয়।

ইতালির শীর্ষ লিগে অপরাজিত ইন্টারের এটা মৌসুমে প্রথম পরাজয়। চেক রিপাবলিকের স্লাভিয়া প্রাহার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-১ ড্রয়ে আসর শুরু করেছিল আন্তোনিও কন্তের দল।

লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণ অনেক উপরে উঠে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করে ইন্টার। তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠে দুই ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে আলেক্সিস সানচেসের বাড়ানো থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে সঙ্গে লেগে থাকা ক্লেমো লংলেকে কোনো সুযোগ না দিয়ে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন মার্তিনেস।

এভাবে গোল খাওয়ার পরও রক্ষণভাগকে অনেক উপরে তুলে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। সে সুবাদে মাঝেমধ্যেই অতর্কিত আক্রমণে ভীতি ছড়াচ্ছিল ইন্টার। চার মিনিটের ব্যবধানে দারুণ দুটি সুযোগও তৈরি করেছিল তারা; তবে বিরতির আগে ব্যবধান বাড়েনি।
৩৩তম মিনিটে সানচেসের ছোট পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে শট নেন নিকোলো বারেল্লা, পা বাড়িয়ে রুখে দেন নেলসন সেমেদো। মার্তিনেসের জোরালো হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন।

বল দখলে রেখে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনায় থাকা বার্সেলোনা নিশ্চিত সুযোগ না পেলেও ভাগ্য একটু সহায় হলে সমতায় ফিরতে পারতো। প্রথম দিকে গ্রিজমানের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ২৫তম মিনিটে মেসির নিচু শট ঠেকান গোলরক্ষক। বিরতির খানিক আগে কাছ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশ করেন আর্থার।

দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে সের্হিও বুসকেতসকে বসিয়ে আর্তুরো ভিদালকে নামান কোচ। আক্রমণে আধিপত্য বাড়ায় বার্সেলোনা। অন্যদিকে, প্রথমার্ধের গতি হারিয়ে ফেলে অতিথিরা।

এরই মধ্যে ৫৮তম মিনিটে সুয়ারেসের অসাধারণ এক গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। ভিদালের ডান দিক থেকে নেওয়া ক্রসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির সাইড ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার।

অনুজ্জ্বল গ্রিজমানের জায়গায় ৬৬তম মিনিটে উসমান দেম্বেলে নামলে গতি বাড়ে বার্সেলোনার আক্রমণে। মাঠে নামার তিন মিনিট পরই গোল পেতে পারতেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড; তবে তার দুরপাল্লার শট ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায়।

৮৪তম মিনিটে বার্সেলোনার জয়সূচক গোলের উৎস মেসি। কয়েক জন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে ছুটে ডি-বক্সে বল বাড়ান চোট কাটিয়ে ফেরা এবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। প্রথম টোকায় সামনে বাড়ানোর পথে একজনকে ফাঁকি দিয়ে দ্বিতীয় ছোঁয়ায় প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন সুয়ারেস।
শেষ দিকে স্কোরলাইনে নাম লেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। তবে ডি-বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দুর্বল শটে হতাশ করেন তিনি।

এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্লাভিয়া প্রাহার মাঠে ২-০ গোলে জিতেছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।

‘ই’ গ্রুপে সাত গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে অস্ট্রিয়ার দল সালসবুর্ককে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে লিভারপুল। আরেক ম্যাচে বেলজিয়ামের ক্লাব হেঙ্কের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে ইতালির দল নাপোলি।

‘জি’ গ্রুপে জার্মানির ক্লাব লাইপজিগের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছে ফ্রান্সের লিওঁ। গ্রুপের অন্য ম্যাচে রাশিয়ার জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ ৩-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগালের বেনফিকাকে।

‘এইচ’ গ্রুপে ফ্রান্সের দল লিলের মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ডের চেলসি। আরেক ম্যাচে স্পেনের ভালেন্সিয়ার মাঠে ৩-০ গোলে জিতেছে গতবারের সেমি-ফাইনালিস্ট ডাচ ক্লাব আয়াক্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *