বিসিবির সঙ্গে চুক্তি বাতিল হচ্ছে সাকিবের

জুয়াড়ির দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখানের পর তা গোপন করায় আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি তাকে সব ধরণের ক্রিকেটে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এরমধ্যে আইসিসিকে দুর্নীতিবিরোধী কাজে সার্বিক সহায়তা করায় সাকিবের এক বছরের সাজা স্থগিত করা হয়েছে। আর এ সময়ে ক্রিকেট থেকে কোনো উপার্জন হবে না বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার পর পরই মর্যাদাপূর্ণ মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। এ রকম আরও অনেক ক্রিকেটীয় অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে হবে তাকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ গ্রেডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের একজন সাকিব। ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরিতে বোর্ড থেকে মাসে চার লাখ টাকা বেতন পেতেন তিনি। সেই চুক্তিও বাতিল হচ্ছে।

সাকিব এক বছর কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। এমনকি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। ফলে অটোমেটিক বিসিবির সঙ্গে তার পূর্ব চুক্তি বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

বোর্ড সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব। এদিন থেকেই বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তা কার্যকর থাকার কথা। তবে এ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সাকিবের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি বাতিল হচ্ছেই। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, নিয়মানুযায়ী নিষেধাজ্ঞার দিন থেকে দুপক্ষের চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। সেটি সম্ভবত আর থাকছে না।

উল্লেখ্য, সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। এমন এক খবর যে শুনতে হবে তা একদিন আগেও ঘূণাক্ষরে টের পায়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

মঙ্গলবার এক জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশবাসী। প্রার্থনা করতে থাকে এই খবরটা যেন গুঞ্জন হয়, উড়ে যায় গুজবের ন্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটাই সত্যি হয়ে আসল। সারা দিন থমথমে অবস্থা বিরাজ করার পর বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাকিবের নিষিদ্ধ হওয়ার খবর নিশ্চিত করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি।

ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবের কথা আইসিসির অ্যান্টি করাপশন এন্ড সিকিউরিটি ইউনিটকে (আকসু) না জানানোর কারণে দুই বছরের সাজা গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশ অধিনায়ককে। তবে আকসুকে তদন্ত কাজে সহায়তা করায় এক বছর শাস্তি কমিয়ে দিয়েছে আইসিসি। যার ফলে আগামী এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *