তরকারিতে অতিরিক্ত লবণ কমাতে যা করবেন

খাবারের পরিপূর্ণ স্বাদ পেতে লবণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে লবণ যদি বেশি হয়ে যায় তবেই বাড়ে বিপদ।

তরকারিতে লবণ কম হলে পরে আবার মিশিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু লবণের পরিমাণ বেশি হলে তা মুখে তোলা সম্ভব হয় না।

যদি লবণ বেশি হয়েই যায় তাহলে কি উপায়? চলুন জেনে নেয়া যাক অতিরিক্ত লবণ কমানোর কিছু কৌশল:

১. ঝোল বেশি জাতীয় কোনো তরকারি হলে তাতে যদি লবণ বেশি হয়ে যায় তাহলে তাতে ২টি টমেটোর টুকরো দিয়ে দিন। এর ফলে তরকারিতে থাকা অতিরিক্ত লবণ কমে আসবে। তরকারির স্বাদও ফিরে আসবে।

২. তরকারি থেকে লবণ কমানোর আর একটি উপায় হল আটা। একটি পাত্রে কিছুটা আটা পানি দিয়ে মিশিয়ে ছোট ছোট মণ্ড তৈরি করে নিন। এরপর সেগুলো লবণ বেশি হওয়া তরকারিতে দিয়ে দিন। তরকারি একটু ফুটলে আটার মন্ডগুলো শক্ত হয়ে যাবে, আর তরকারির অতিরিক্ত লবণ শুষে নেবে। এবার আটার মণ্ডগুলো তরকারি থেকে তুলে নিন।

৩. যদি তরকারিতে বেশি লবণ পড়ে যায় তাহলে তাতে কয়েকটি আলুর টুকরো কেটে দিয়ে দিন। আর সেটি তরকারির সঙ্গে ফুটতে দিন। আলু সেদ্ধ হতে হতে তরকারির অতিরিক্ত লবণ টেনে নেবে।

৪. তরকারি থেকে অতিরিক্ত লবণ কমানোর আরো একটি উপায় হল লেবুর রস। লেবুর রস মিশিয়ে দিলে তরকারির অতিরিক্ত লবণ কমে যায়।

৫. স্যুপ বা তরল কোনো খাবারের ক্ষেত্রে লবণ বেশি হয়ে গেলে তাতে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। এতে পানি ও লবণের পরিমাণ মিশে একটা ঠিকঠাক স্বাদ নিয়ে আসবে।

৬. যদি তরকারিটি কোনো সবজির হয় তাহলে সেই তরকারিতে সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। পড়ে দেয়া সবজিগুলো ছোট ছোট কুচি করে কেটে দিয়ে দিন। এতে তরকারির সবজি লবণের সঙ্গে মিশে স্বাদের সমতা বজায় রাখবে।

৭. তরকারিতে লবণ বেশি হলে পেঁয়াজ সেই তরকারির স্বাদ ফিরিয়ে আনতে পারে। লবণ বেশি হওয়া তরকারিতে পেঁয়াজ বড় বড় টুকরো করে কেটে মিশিয়ে দিন।

৮. টকদই দিলেও কমতে পারে অতিরিক্ত লবণ। তরকারি বুঝে তাতে টকদই মেশান।

৯. মাছের তরকারী হলে ডালের বড়ি দিতে পারেন। তেলের মাঝে বড়ি হালকা ভেজে তরকারিতে দিয়ে দিন। এতে লবণ যেমন কমবে, স্বাদেও আসবে ভিন্ন মাত্রা।

১০. সবজি ভাজিতে লবণ বেশি হলে যোগ করুন অনেকটা কাঁটা পেঁয়াজ ও ধনেপাতা। টমেটো কুচিও দিতে পারেন। তারপর ভালো করে ভেজে নিন আবার। দেখবেন লবণ হয়ে গিয়ে সহনীয় মাত্রায়।

১১. দোপেয়াজা বা কোন ভুনা খাবারে লবণ বেশি হয়ে গেলে যোগ করুন অল্প টক দই ও চিনি। ভালো করে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে ১৫/২০ মিনিট দমে রাখুন। লবণ তো কমবেই সাথে খাবারের স্বাদ বাড়বে বহুগুণে।

১২. রোস্ট, রেজালা ইত্যাদি খাবারে লবণ বেশি হয়ে গেলে যোগ করুন মালাই। একইভাবে দমে দিয়ে রাখুন। লবণ কমে যাবে।

১৩. কাবাব, ভুনা, বা ডাল চচ্চড়ি জাতীয় খাবারে লবণ বেশি হয়ে গেলে যোগ করতে পারেন অল্প লেবুর রস ও সাথে এক চিমটি চিনি। খাবারের লবণকে অনেকটাই কম মনে হবে।

১৪. যেকোন তরকারিতেই লবণ বেশি হলে বেরেস্তা যোগ করুন। এতে ঝোল ঘন হবে, স্বাদে যোগ হবে বাড়তি মাত্রা, অন্যদিকে লবণটাও কমে আসবে।

১৫. তন্দুরি চিকেনে লবণ বেশি হয়ে গেলে সাথে পরিবেশন করুন একটু বেশি মিষ্টি দেয়া রায়তা। দেখবেন, কেউ বেশি লবণ বুঝতেই পারবে না!

১৬. লবণ কমাতে আরেকটি ভীষণ কাজের জিনিস হলো দুধ। দুধ যোগ করলে সেটা স্বাদে কোন হেরফের করবে না। কিন্তু তরকারির লবণ কমিয়ে দেবে একদম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *