ছেলেসহ নূরুল ইসলামের মৃত্যু, কাউন্সিলর মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি রুবি রহমান

গণতন্ত্রী পার্টির সাবেক সভাপতি নূরুল ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ওরফে মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন নূরুলের স্ত্রী রুবি রহমান। তিনি মনে করেন নূরুল ইসলামের মৃত্যু পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল।

আজ বুধবার নূরুল ইসলাম ও তাঁর একমাত্র ছেলে ইসলাম তমোহরের ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রুবি রহমান।

আলোচিত রহস্যজনক এ মৃত্যুর তদন্ত ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) করছে। এর আগে এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিল সিআইডি, র‍্যাব ও ডিবি।

২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর লালমাটিয়ায় স্বপ্নপুরী হাউজিং কমপ্লেক্সের ফ্ল্যাটে নূরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে ইসলাম তমোহর ঘুমন্ত অবস্থায় রহস্যজনক দগ্ধ হন। এ ঘটনায় তমোহর ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত নূরুল ইসলাম সাময়িকভাবে জ্ঞান ফিরে পেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ ডিসেম্বর বিকেলে মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হয়।

নূরুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত তথ্যানুসন্ধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন নূরুল ইসলামের স্ত্রী রুবি রহমান। ব্রিফিংয়ে রুবি রহমান বলেন, স্বপ্নপুরী হাউজিং কমপ্লেক্সের বাড়িওয়ালার (হাবিবুর রহমান মিজান) ভূমিকা সন্দেহজনক ছিল। সন্দেহজনক ভূমিকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে থানায় অভিযোগ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। অথচ মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়টি আমলে নেননি। একজন ‘সম্মানিত নাগরিক’ হিসেবে বিবেচনা করে মিজানকে তখন তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছিল। গত অক্টোবর মাসে মিজান গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন স্বপ্নপুরী হাউজিং কমপ্লেক্সের বাড়িওয়ালা মিজানকে তদন্তে আনা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে মিজান সম্পদ তৈরি করেছেন তা এখন সবাই জানেন।

মিজান ও তাঁর বাড়ির দারোয়ান রবিউলকে তদন্তের আওতায় আনা গেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন রুবি রহমান।

গত ১০ অক্টোবর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শ্রীমঙ্গল থেকে কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ওরফে মিজানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর লালমাটিয়ায় তাঁর কার্যালয়েও অভিযান চালানো হয়। হাবিবুর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

রুবি রহমান বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে মামলার তদন্ত কার্যক্রমটি চাঞ্চল্যকর মামলার তালিকায় স্থান পায়। এরপর ১১ বছর পার হলো। তদন্তকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তার বদল হয়েছে বহুবার। আমরা তদন্তের ধীর অগ্রগতির বিষয়টিও সামনে আনতে চাই।’

রুবি রহমান বলেন, মৃত্যুর আগে টিভি সাক্ষাৎকারে নূরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘসময় ধরে তিনি ও তমোহর টেলিফোনে মৃত্যুর হুমকি পেয়ে আসছিলেন। তাঁদের ওপর এই আক্রমণের পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী শক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কিন্তু শুরুতে, তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে, কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈদ্যুতিক সংযোগে শর্টসার্কিট সার্কিটজনিত দুর্ঘটনায় ফ্রিজের কম্প্রেসর বিস্ফোরণে নূরুল ইসলাম ও ইসলাম তমোহরের মৃত্যু হয়েছে। অথচ অগ্নিদগ্ধ ফ্রিজের কমপ্রেসর সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। তবে পিবিআই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।

২০০৮ সালে নোয়াখালী-১ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন নূরুল ইসলাম। এর পর তাঁর নামে কক্সবাজারে একটি সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের মামলা হয়। এ কথা জানিয়ে রুবি রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে নোয়াখালী যাওয়ার পথে এ কথা নূরুল ইসলামকে জানানো হয়। নির্ধারিত সফর বাতিল করে তিনি তমোহরসহ ঢাকা ফিরে আসেন। নূরুল ইসলামের কক্সবাজারে ওই ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। কাজেই কোনো ঋণ বা ঋণ খেলাপের প্রশ্নই ওঠে না। কে বা কারা নূরুল ইসলামের নামে খেলাপি ঋণের মিথ্যা মামলা করেছিল—এই প্রশ্নের উত্তর আমরা আজও জানি না।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে নূরুল ইসলাম, ত্বকী, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ কোনো এক কারণে এখনো থমকে আছে। সভ্যসমাজের স্বার্থে এই বিচার কাজ হওয়া দরকার। পিবিআই এ মামলার চার্জশিট দ্রুত দেবে বলে আশা করেন তিনি।

কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, জানতে চাইলে পিবিআই পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ) শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নূরুল ইসলামের পরিবার কাউন্সিলর মিজানের বিষয়ে তাদের (পিবিআই) কিছু জানায়নি। জানালে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *