সিদ্ধ করার পর ডিম হয়ে গেল গোলাপি

একসঙ্গে চারটি ডিম সিদ্ধ করেছিলেন শ্রাবণী। কিন্তু ভাঙার পর দেখা যায় একটি ডিম গোলাপি রঙ ধারণ করেছে। আর সেটির কুসুমের রং হলুদ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কাটোয়ার ভূতনাথতলায় এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ডিমগুলো সিদ্ধ করেছিলেন শ্রাবণী নামের এক নারী।

তিনি জানান, ডিমটা সিদ্ধ করার পরে খোলা ছাড়াতেই দুর্গন্ধযুক্ত গোলাপি আস্তরণ বেরিয়ে আসে। শুক্রবার সেটি প্রাণিসম্পদ দফতরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

শ্রাবণীদেবীর ছেলে কৌশিক রায় জানান, কুসুমটা হলুদ। কিন্তু গোলাপি শক্ত অংশটা প্লাস্টিকের মতো মনে হচ্ছে।

স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপন দে বলেন, ‘তারা ডিম পরীক্ষা করতে এনেছিলেন। পরীক্ষার পরেই এ বিষয়ে বলা যাবে।’

চকবাজারে ওয়াহেদ ম্যানশনে অক্ষত ছিল কোরআন-হাদিস

চকবাজারের চুড়িহাট্টার হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। সেই আগুনের সূত্রপাত কীভাবে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এই আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশন! অবাক করার বিষয় হলো আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনসহ পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপার বিস্ময়ে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদ।

আগুনে মসজিদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। পাশে রাজমনি হোটেলের সামনের শাটার, হাড়িপাতিল ও আসবাবপত্রও পুড়ে গেলেও পুরোপুরি অক্ষত ছিল হোটেলে প্রবেশদ্বারের ওপরে লেখা কালেমা তৈয়্যবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)’।

আর পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ওয়াহেদ ম্যানশনের ভেতরে রয়েছে আরেক বিস্ময়! আগুনে ভবনের ভেতরে থাকা সব আসবাব পুড়ে কয়লা হলেও অক্ষত আছে ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকা পবিত্র কোরআন শরিফ ও হাদিসের গ্রন্থসহ অন্য বইগুলো।

সকালে ওয়াহেদ ম্যানশনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির নিচতলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ফ্লোরই আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু নিচতলার একটি গোডাউনে এখনো প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ অক্ষত অবস্থায় মজুদ রয়ে গেছে। ভবনের সব ফ্লোরে আগুনের ভয়াবহতার চিহ্ন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা ভবনটি! সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে দেখা যায়, আগুনে পোড়া জিনিসপত্রগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রান্নাঘরে চুলার উপরে থাকা হাঁড়ি, কড়াই সব পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, খাবার ঘরে টেবিলে রাখা জগ, গ্লাস, প্লেট সবই পুড়ে গেছে।

ওয়াহেদ ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের রুমগুলো আগুনে পুড়ে কয়লা হলেও দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাখা অনেকগুলো কোরআন শরিফ ও হাদিসের বইসহ সব বই আছে পুরোপুরি অক্ষত! বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে ভবনের ভেতর-বাইরে সব পুড়ে কয়লা, এমনকি আশপাশের ভবনও সেখানে খোদ ভবনের ভেতরেই অক্ষত আছে পবিত্র কোরআন-হাদিসের বইগুলো! সেখানে থাকা একটি বইও আগুন স্পর্শ করেনি

কোরআন ও হাদিসের বই সাজিয়ে রাখা কক্ষটিতে থাকা কয়েকটি চেয়ার এবং ছোট টেবিল পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, কিন্তু বুক সেলফ ও বইগুলো আছে ঠিক আগের মতো সাজানো গুছানো! দেখে মনে হবে এখানে যেন কোনো কিছুই হয়নি।

চকবাজারে আগুনে পুড়ে তিন স্বজন হারানো বাদশার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে কোরআন-হাদিস অক্ষত থাকার বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বলেন, ‘ভাই, ভবনের পাশে মসজিদও তো কিছু হয়নি!

পুরো একটা ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেলো অথচ সেখানে থাকা কোরআন-হাদিসের কিছুই হলো না, এটা আল্লাহর অশেষ রহমত ছাড়া আর কিছু নয়।’

বাদশা মিয়া আরো বলেন, ‘আগুনের ঘটনার পর বাঁচার জন্য অনেকে আশপাশের ভবন ও দোকানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ বেঁচে নেই।

ডাকসু নিয়ে মুখোমুখি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ

বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারাই হতে যাচ্ছেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থী। দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের কথায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এমনটা ঘটলে আলাদা প্যানেল দেয়ার হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগের ক্ষুব্ধ একটি অংশ। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের।

প্রার্থী হতে চান ছাত্রলীগের প্রায় সব নেতা। দল ক্ষমতায় থাকায় এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না কেউই।

তারা বলছেন, প্রতিযোগিতা থাকাটা সংগঠনের জন্য ইতিবাচক, ছাত্রলীগ সুস্থ প্রতিযোগিতাকে সব সময় উৎসাহিত করে। যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে এটাই প্রত্যাশা তাদের।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ফলে এ দুই কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে দিয়ে চলছে সংগঠনটি। আবার এ ৪ জনকেই ডাকসুর শীর্ষ পদগুলোতেও প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে। ছাত্রলীগের কমিটিতে আসতে ইচ্ছুক নেতা-কর্মীদের বিবেচনা করা হচ্ছে ডাকসুর অন্যান্য পদ এবং হল সংসদের জন্য।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এই মুহুর্তে যারা নেতৃত্বে আছে তাদের মধ্য থেকেই নেতা খুঁজে বের করতে হবে।

বর্তমান কমিটির নেতারাই প্রার্থী হচ্ছেন ডাকসুতে- এমন ইঙ্গিত পেয়ে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের একটি অংশ। উপেক্ষা করা হলে আলাদা প্যানেল দেয়ার কথাও ভাবছেন তারা।

তারা বলেন, সম্মেলনে আমরা মূল্যায়িত হইনি, ডাকসু-তে যেন আমরা মূল্যায়িত হই। ছাত্র পরিষদের সমন্বয়ে প্যানেল তৈরির চেষ্টা করবেন বলে জানান তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের নির্বাচন করার অধিকার আছে।

তবে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিমের আশা, শেষ পর্যন্ত থাকবেনা কোনো বিভেদ। তিনি বলেন, ‍আবেগপ্রবণ হয়ে কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে থাকবে।

আগামী সোমবার বিকেল ৪ টার মধ্যে সংগ্রহ করতে হবে মনোনয়নপত্র। তাই শিগগিরই ঘোষণা করা হবে ছাত্রলীগের প্যানেল।

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির সম্পর্ক আছে কিনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: ফখরুলকে তথ্যমন্ত্রী

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘দেশে গণতন্ত্র নাই বলে চকবাজারে আগুন লেগেছে’ শীর্ষক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ।

মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি (মির্জা ফখরুল) বলছেন গণতন্ত্র নাই বিধায় চকবাজারে আগুন লেগেছে। চকবাজারে আগুনের সাথে গণতন্ত্রের কী সম্পর্ক আমি জানি না। তবে এ কথার মাধ্যমে এটি ব্যাখ্যা দেয়া যায় যে, পেট্রোলবোমার মতো এটার সাথে (চকবাজারে আগুন) তাদের (বিএনপির) কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যম ফখরুল সাহেব তাহলে প্রকারান্তরে এটিই বলেছেন যে এই অগ্নিকাণ্ডের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। কারণ গণতন্ত্র নাই বিধায় তারা মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে ৫’শর বেশি মানুষকে তারা পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করেছে। সাড়ে তিন হাজার মানুষকে আগুনে ঝলসে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল সম্পর্কে নিজের উচ্চ ধারণা ছিল উল্লেখ করে হাসান মাহমুদ বলেন, ফখরুল সাহেব সম্পর্কে আমার ধারণাটা অনেক উচ্চ ছিল। কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে তিনি প্রচণ্ড অবান্তর কথা বলছেন। গণতন্ত্র নাই বলে চকবাজারে আগুন লেগেছে এটি কী রকম দায়িত্বহীন কথা এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

অবান্তর কথা না বলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমি ফখরুল সাহেবকে বলবো যে, এধরণের অবান্তর কথা না বলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে শিক্ষা নিন।

ভারতে জঙ্গি হামলায় ৫২ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হবার ঘটনায় সকল বিরোধী দল যেভাবে সরকারকে সহযোগিতা করছে তা থেকে শিক্ষা নেয়ার পরামর্শ দেন হাসান মাহমুদ।

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের পর বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রদর্শন করা উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সময়ে তাদের (বিএনপির) উচিত ছিল জাতীয় ঐক্য প্রদর্শন করা। একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে তাদের সেটিই করা উচিত ছিল। সেটি না করে যেকোনো ঘটনার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা সমীচীন নয়। সেটা না করে তিনি (মির্জা ফখরুল) বরং তাদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

হাসান মাহমুদ বলেন, আমি তাদের বলবো যে, এ ধরনের অবান্তর কথা না বলে জাতীয় ঐক্য এবং সংহতির স্বার্থে আসুন সবাই মিলে যারা নিহত ও আহত হয়েছে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াই।

‘এমএ পাস’ ওসি পরীক্ষা দিচ্ছেন এসএসসি

নীলফামারীর ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন শেখ এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। চলতি বছর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জলঢাকার আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রের ১নং রুমে বসে পরীক্ষা দেন তিনি। বিষয়টি জানার পর ওই কেন্দ্রে গিয়ে ওসির পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা যায়, ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে মফিজ উদ্দিন শেখ ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ মে তিনি ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বতমার্নে তিনি সেখানেই কর্মরত।

একাধিক পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জানান, ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স পাস করার সনদপত্র দিয়ে পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি নিয়েছেন। তিনি ৮ম শ্রেণির সনদপত্র দিয়ে কনস্টেবল পদে পুলিশ বিভাগে যোগদানের পর পদোন্নতি নিয়ে বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) হিসেবে ডিমলা থানায় কর্মরত আছেন।

উন্মুক্ত বিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৭ সালে জলঢাকার আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে তিনি ভর্তি হন। ২০১৮ সালের প্রথম সেমিস্টারের ও চলতি বছরের ২২ ফ্রেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিস্টারের বাংলা দ্বিতীয় পত্র বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন মফিজ উদ্দিন শেখ।

এ বিষয়ে জলঢাকা আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে তিনি (মফিজ উদ্দিন শেখ) বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২টি সেমিস্টারের পরীক্ষায় এবার পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে ওসি মফিজ উদ্দিনসহ দ্বিতীয় সেমিস্টারে ৯৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

এ ব্যাপারে ওসি মফিজ উদ্দিন শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জ্ঞান অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। আমি আমার আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে পদোন্নতি নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েছি। এরপরও ব্যক্তিগত ইচ্ছায় আবারও এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। মানুষ ডাবল এমএ পাস করে না? এতে অসুবিধা কী?

যে ১০টি লক্ষণে বুঝবেন আপনি ক্যানসারে আক্রান্ত

ক্যানসার নিঃসন্দেহে মারণ রোগ। কিন্তু সঠিক সময়ে ক্যানসারকে যদি চিহ্নিত করা যায়, এবং যথাযথ চিকিত্‍সার সুফল যদি মেলে তাহলে ক্যানসারকেও পরাজিত করা সম্ভব। এর জন্য দরকার ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা। কোন কোন শারীরিক পরিবর্তন ক্যানসারের পূর্বাভাস দেয়? জেনে নিই, ‘জার্নাল অফ ক্যানসারে’ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ডাক্তার রেণু ওয়াধা ও নূপুর নিগম কী জানাচ্ছেন-

১. যদি চামড়ার নীচে কোনও মাংসের দলা দেখা দেয়: এটা বোঝা যায় খুব সহজেই। হাত দিয়ে স্পর্শ করে যদি শরীরের কোনও অংশে শক্ত মাংসের দলা অনুভব করেন তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের দ্বারস্থ হন। স্তন, অণ্ডকোষ, গলা, তলপেট কিংবা বগলের মতো জায়গাগুলোতে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

২. শরীরের কোনও অংশ যদি লাল হয়ে ফুলে যায় এবং চুলকানি দেখা দেয়: কোনও অংশে ক্যানসার দেখা দিলে সাধারণত শরীরের স্বাভাবিক প্রতিষেধক ক্ষমতার প্রতিক্রিয়ায় ওই অংশে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। স্বভাবতই ওই অংশ লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে, এবং সেখানে চুলকানিও দেখা দিতে পারে।

৩. যদি শরীরের কোনও অংশের কোনও ঘা বা ক্ষত সারতে না চায়: দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনও ঘা বা ক্ষত না সারে, তাহলে ডাক্তারের কাছে অবশ্যই যেতে হবে।

৪. যদি মুখের ভিতরে সাদা মুখওয়ালা কোনও গোটা দেখা দেয়: জ্বিহা, মুখের ভিতরের অংশ, কিংবা মাড়িতে যদি কোনও গোটা দেখা দেয় এবং সেটির মুখ যদি সাদা হয়, তাহলে কালবিলম্ব না করে ডাক্তারের কাছে চলে যান।

৫. হঠাত্‍ করে ক্ষুধা চলে যাওয়া: ক্যানসারের প্রভাবে শরীরে নিউট্রিয়েন্টস কমে যায়। পরিণামে ক্ষুধাও হ্রাস পায়।

৬. মলত্যাগের অভ্যাসে কোনও আকস্মিক পরিবর্তন‌ কিংবা মলের সঙ্গে রক্তপাত।

৭. মূত্রত্যাগের অভ্যাসে কোনও পরিবর্তন: যদি মূত্রের রং, পরিমাণ বা গন্ধে কোনও লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন আসে, কিংবা মূত্রের সঙ্গে রক্তপাত ঘটে, তা হলে তা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

৮. ব্যাখ্যাহীন রক্তপাত: শরীরের কোনও অংশ থেকে (যেমন যোনি কিংবা স্তনবৃন্ত) যদি আকস্মিকভাবে কোনও সুস্পষ্ট কারণ ছাড়়াই রক্তপাত শুরু হয়ে যায়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৯. কন্ঠস্বরে আকস্মিক পরিবর্তন হওয়া।

১০. একটানা কাশি: যদি টানা দু’সপ্তাহের উপর কাশি থাকে, তবে তা গলা, ফ‌ুসফুস, খাদ্যনালী এমনকী পাকস্থলীর ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

আপনি কি জানেন ভোরবেলা রসুন খাওয়ার উপকারিতা কি ??

অনেকের কাছেই সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়াটা ভীষণ অস্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু খালি পেটে রসুন খাওয়া দেহের জন্য ভীষণ স্বাস্থ্যকর একটি ব্যাপার।

খালি পেটে রসুন খেলে এমন কিছু উপকার হয়, যেটা অন্য খাবারের সাথে রান্না করা অবস্থায় খেলে হয় না। এটি শুধু বিভিন্ন ধরণের রোগ দূরই করে না, পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে : অসংখ্য মানুষ যারা উচ্চ রক্তচাপের শিকার তারা দেখেছেন, রসুন খাওয়ার ফলে তাদের উচ্চ রক্তচাপের কিছু উপসর্গ উপশম হয়। রসুন খাওয়ার ফলে তারা শরীরে ভাল পরিবর্তন দেখতে পায়।

শরীরকে ডি-টক্সিফাই করে : অন্যান্য ঔষধের তুলনায় শরীরকে ডি-টক্সিফাই করতে রসুন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন প্যারাসাইট, কৃমি পরিত্রাণ, জিদ, সাঙ্ঘাতিক জ্বর, ডায়াবেটিস, বিষণ্ণতা এবং ক্যান্সার এর মত বড় বড় রোগ প্রতিরোধ করে।

প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক : গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পেটে রসুন খাওয়া হলে এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক এর মতো কাজ করে। সকালে নাস্তার পূর্বে রসুন খেলে এটি আরও কার্যকরীভাবে কাজ করে। তখন রসুন খাওয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো উন্মুক্ত হয় এবং রসুনের ক্ষমতার কাছে তারা নতিস্বীকার করে। তখন শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াসমূহ আর রক্ষা পায় না।

যক্ষ্মা প্রতিরোধক : আপনার যদি যক্ষ্মা বা টিবি জাতীয় কোন সমস্যা ধরা পড়ে, তাহলে সারাদিনে একটি সম্পূর্ণ রসুন কয়েক অংশে বিভক্ত করে বার বার খেতে পারেন। এতে আপনার যক্ষ্মা রোগ নির্মূলে সহায়তা পাবেন।

অন্ত্রের জন্য ভাল : খালি পেটে রসুন খাওয়ার ফলে যকৃত এবং মূত্রাশয় সঠিকভাবে নিজ নিজ কার্য সম্পাদন করে। এছাড়াও, এর ফলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় যেমন- ডায়রিয়া। এটা হজম ও ক্ষুধার উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। এটি স্ট্রেস দূর করতেও সক্ষম। স্ট্রেস বা চাপের কারনে আমাদের গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যায় পরতে হয়। তাই, খালি পেটে রসুন খেলে এটি আমাদের স্নায়বিক চাপ কমিয়ে এ সকল সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

শ্বসন : রসুন যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, ফুসফুসের কনজেশন, হাপানি, হুপিং কাশি ইত্যাদি প্রতিরোধ করে। রসুন এ সকল রোগ আরোগ্যের মাধ্যমে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

সতর্কবার্তা: যাদের রসুন খাওয়ার ফলে এলার্জি হবার আশঙ্কা রয়েছে বা হয় তারা অবশ্যই কাঁচা রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া যাদের রসুন খাওয়ার ফলে মাথা ব্যথার সমস্যা হয়, বমির প্রাদুর্ভাব হয় বা অন্য কোন সমস্যা দেখা যায় তাদের জন্য কাঁচা রসুন না খাওয়াই ভাল।

কথায় বলে ” উকিল আর চিকিৎসকের কাছে তথ্য গোপন করতে নেই “। তবুও আমরা হরহামেশাই আমাদের জীবনের অনেক তথ্যই গোপন করে যাই চিকিৎসকদের কাছ থেকে। আপনিও কি এমনটা করে থাকেন? তাহলে আজ জেনে নিন এমন কিছু ব্যাপার সম্পর্কে, যেগুলো চিকিৎসকের কাছ থেকে মোটেই গোপন করা উচিত নয়।

অত্যধিক মদ্যপান করা: অনেকেই লজ্জায় বা কুণ্ঠায় চিকিৎসকের কাছে নিজের মদ্যপানের কথা বলেন না। এটি যে শুধু রোগীর শারীরিক অবস্থাকেই খারাপ করে দেয় তা না, এই বাজে অভ্যাসটিকেও নাছোড়বান্দা বানিয়ে দেয়। আপনার মদ্যপানের সমস্যাটি যদি স্থায়ী না করতে চান, তাহলে চিকিৎসকের সাথে এ নিয়ে কথা বলুন। চিকিৎসক খুব সহজেই আপনাকে এই সমস্যাটি থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করতে পারবেন।

ধূমপান না ছাড়া: চিকিৎসক হয়তো আপনাকে আরও আগেই বলেছেন ধূমপান না করতে। অথচ, ধূমপান ছাড়তে পারেননি আপনি। এই তথ্য চিকিৎসক জানলে খানিকটা রেগে যাবে এটা সত্যি। হয়তো আপনাকে অনেকটা সময় চিকিৎসকের কথা শুনতে হতে পারে। তবুও চিকিৎসকের কাছে ব্যাপারটি গোপন করবেন না। কারণ, এতে করে চিকিৎসা কাজ না করতে পারে। আপনার শরীর ভালো না হতে পারে।

ঘুমোতে না পারা: হয়তো আপনি ভাবছেন, ঘুম খুব ছোট একটি ব্যাপার। মানুষের ঘুম না আসতেই পারে। এটা নিয়ে চিকিৎসককে জানানোর কিছু নেই। বাস্তবে ঘুমোতে না পারা অনেক রোগের নিদর্শন হতে পারে। তাই চিকিৎসককে রোগ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে তাকে ঘুমের সমস্যার কথাও জানান।

ওষুধ না খাওয়া: হয়তো আপনি ওষুধ সেবন করতে ভুলে গিয়েছেন, কিংবা ওষুধ ইচ্ছে করেই খাচ্ছেন না। যে কারণেই ওষুধ সেবন করা বন্ধ করেন না কেন, চিকিৎসককে সেটা জানান। হতেই পারে যে, শরীর একটু ভালো হয়ে গিয়েছে বলে আপনি আর ওষুধ সেবন করছেন না। তবে, ব্যাপার যেটাই হোক, সেটা চিকিৎসককে খুলে বলুন।

অন্ত্রের সমস্যা থাকা: ছোটবেলা থেকেই আমাদেরকে শেখানো হয় যে, মল ও মূত্র সম্পর্কে কথা বলাটা লজ্জাজনক। বিছানা ভিজিয়ে ফেললে সেটা নিয়ে কত হাসাহাসিই তো করা হয় বাচ্চাদের সাথে, তাই না? তাই না চাইলেও আমরা বড়বেলাতেও এই ব্যাপারগুলো লুকিয়ে রাখতে, গোপন করতে শিখে যাই। অথচ, আপনার শারীরিক যেকোনো অসুস্থতার পেছনে বড় নিদর্শন হিসেবে কাজ করে এই জিনিসটি। তাই এ ব্যাপারেও চিকিৎসকের কাছে লুকবেন না মোটেই।

অবসাদবোধ করা: আপনি হয়তো কোনো কারণ ছাড়াই বা অল্পতেই অনেক বেশি হতাশা, মানসিক ক্লান্তি, চাপ অনুভব করছেন। কেন এমনটা হচ্ছে? এমনিতে ব্যাপারটি নিয়ে আমরা খুব একটা পাত্তা না দিলেও এটি আপনার মানসিক সমস্যার কোনো কারণ হতে পারে। তাই, আপনি ঠিক কেমন বোধ করছেন তা চিকিৎসককে খুলে বলুন।

যৌনমিলনের সময় ব্যথাবোধ করা: এমনটা হতেই পারে যে আপনার যৌনমিলনের সময় যৌনাঙ্গে ব্যথাবোধ হচ্ছে। যৌনাঙ্গে আরও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলো প্রাথমিকভাবে চিকিৎসককে জানানোর মাধ্যমে কমিয়ে না আনলে পরবর্তীতে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই, যে সমস্যাই হোক না কেন সেটা জানান আর ব্যবস্থা নিন।

অত্যধিক ওষুধ সেবন করা: আপনি কি অনেক বেশি ওষুধ সেবন করছেন? অনেক বেশি ওষুধ সেবন করলে সেটি আপনার শরীরকে পানিশূন্য করা থেকে শুরু করে নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের সাথে কথা বলবেন, তখন তাকে আপনার আগের সমস্ত ওষুধ সম্পর্কে জানান। হতেই পারে যে, এক্ষেত্রে আপনাকে নতুন ওষুধ নিতে হবে।

সমস্যা লুকিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো ইতিবাচক ব্যাপার নেই। বিশেষ করে চিকিৎসকের কাছে কোনো কথা লুকিয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক আর কিছু হয় না। তাই, চিকিৎসককে তথ্যগুলো খুলে বলুন এবং সঠিক চিকিৎসা নিন, এমনটাই জানিয়েছেন পার্কওয়ে হসপিটালের ডক্টর ওথেলো ডেভ।

রক্তস্বল্পতার প্রধান কারণ আয়রনের ঘাটতি। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্যাসট্রিকের ওষুধ সেবন করা। রক্তস্বল্পতার বিভিন্ন কারণের বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩২৮২তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. সালমা আফরোজ। বর্তমানে তিনি বারডেম জেনারেল হসপিটালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন ও ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : কী কী কারণে রক্তস্বল্পতা হয়?

উত্তর : রক্তস্বল্পতার প্রধান কারণ হলো আয়রনের অভাব। এই আয়রন কম হয়ে যাওয়ার জন্য আবার অনেক কারণ দায়ী। একটি বাচ্চা যখন বড় হচ্ছে, মানুষ যখন বড় হচ্ছে, তখন আগে যতটুকু আয়রন লাগত, এর চেয়ে অনেক বেশি দরকার হয়। কিন্তু খাচ্ছে তো সে আগের মতোই। আবার পুষ্টির ঘাটতির কারণেও রক্তস্বল্পতা হয়। আমাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক সময় এত খারাপ থাকে যে আমরা হয়তো পরিমিত আয়রন খেতে পারি না। আয়রনেরও আবার প্রকারভেদ রয়েছে। শাকে আপনি এক ধরনের আয়রন পাবেন। আর মাংসে আপনি আরেক ধরনের আয়রন পাবেন। মাংসের আয়রনটা খুব বেশি কাজে লাগে। তবে সবার পক্ষে মাছ, মাংস বা কলিজা তো খাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দেশে, তৃতীয় বিশ্বে রক্তস্বল্পতার একটি কারণ হলো অপুষ্টি। আমরা দেখি বাচ্চারা খুব ফাস্টফুড খাচ্ছে। আবার অনেকে ডায়েট করছে, তবে হয়তো জানেই না কী খাচ্ছে, না খাচ্ছে বা কী বাদ দিচ্ছে। কোনো নিয়ম মেনে চলছে না। সঠিক দিকনির্দেশনায় ডায়েট করছে না। আবার নারীদের কিছু কারণ থাকে। একদম ছোট বাচ্চারা দুধের ওপর মানুষ হয়। অনেকে দুধও খাওয়াতে পারে না। বার্লি জ্বাল দিয়ে খাওয়ায় বা চালের গুঁড়া খাওয়ায়। সেগুলোতে একদমই আয়রন থাকে না। গরুর দুধ থেকে পেতে পারে আয়রন। তবে একটি বয়সের পর থেকে আয়রনসমৃদ্ধ কিছু খাবার খেতে হবে। কারণ, তখন স্বল্পতা রয়েই যায়। আর আজকাল মায়েদের খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। যাঁরা চাকরিজীবী, তাঁরা অফিসে ব্যস্ত থাকেন। আবার বাসায় যে গৃহিণী মা থাকে, তাকেও বাচ্চা নিয়ে ১৪ জায়গায় দৌড়াতে হয়। এর জন্য বাচ্চাকে যে খুব সুন্দর করে খাওয়ানো, সেটি করা যায় না। এসব কারণে আয়রনের ঘাটতি হয়। আর মেয়েদের বেশি হয়। কারণ, মেয়েদের একদিকে ঋতুস্রাব হচ্ছে প্রতি মাসে। আর আমাদের দেশের মেয়েরা, বিশেষ করে সবার খাওয়ার পরেই খায়। নিজের প্রতি একেবারেই যত্নশীল থাকে না। এ ছাড়া বিভিন্ন অসুখ রয়েছে যার জন্য শরীরে রক্ত তৈরিতে অসুবিধা হয়।

প্রশ্ন : আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্তস্বল্পতা ছাড়া কি আর কোনো রক্তস্বল্পতা রয়েছে?

উত্তর : ফলিক এসিড বলে আরেকটি ভিটামিন রয়েছে, বি১২ রয়েছে, এগুলোরও ঘাটতি পাচ্ছি। জিংকের ঘাটতি পাচ্ছি। ফলিক এসিড যেমন মাংসে থাকে, লিভারে থাকে আবার সবুজ শাকসবজিতেও থাকে। সবুজ শাকসবজি আমরা রান্না করতে করতে এমন অবস্থা করি যে এর ৯০ ভাগ পুষ্টিই নষ্ট হয়ে যায়। তখন যেটা খাই, পুষ্টিটা আমাদের ঠিকমতো কাজে লাগে না। একদম ভাজাপোড়া করে রান্না করার দরকার নেই। আমরা তো খুব তেল, মসলা দিয়ে রান্না করি, তখন খাবারের আর তেমন পুষ্টি থাকে না।

খাবারের একটি বিশেষ বিষয় হলো সব রকমের খাবার আপনাকে খেতে হবে। এভাবে যদি আমরা চলি, আর আয়রনজনিত খাবারও যদি খাই, তাহলে সব ধরনের রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা পাব। আরেকটি বিষয় একটু বলি, যখন সুযোগ পেলাম, অ্যান্টিগ্যাসট্রিকের ওষুধ বেশি দিন খেলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। অনেক রোগীই যত্রতত্র ওষুধ খাচ্ছেন চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে। হয়তো ২০/২৫ বছর ধরে টানা খাচ্ছেন। আবার অনেকে চিকিৎসককে গিয়ে শুরুতেই বলছেন, আমার গ্যাস। অনেক চিকিৎসক হয়তো রোগীদের কাছ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য দু-এক সময় ওষুধ দিয়েও দিচ্ছেন। যখন রোগীর রক্তস্বল্পতা হবে, তখন অবশ্যই খুঁজে বের করা দরকার যে কী কারণে এটি হচ্ছে।

কর্তব্যপরায়ণ ডাক্তারকে ওসির হুমকিঃ মামলায় ঢুকায়া দেবো, চেনেন আমারে?

শিশু ধর্ষণের রিপোর্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম। হুমকির দেয়ার ওই অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদের সঙ্গে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখের মঙ্গলবার বিকালের ওই কথোপকথনের রেকর্ড তার ব্যাচের চিকিৎসকরা ফেসবুকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা এ বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

দুপুরের দিকে বাগাতিপাড়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদের কাছে জানতে চান তারা কি রিপোর্ট দিয়েছেন, ধর্ষণ নাকি ধর্ষণ চেষ্টা? ওই সময় মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাকে জানান তিনি এই মুহূর্তে দায়িত্বে নেই।

তিনি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সরকারি নাম্বারে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওসি ফোন না কেটে বরং ওই চিকিৎসকের সঙ্গেই উচ্চবাচ্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত ওসি ওই চিকিৎসককে মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এ ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ওসির আচরণে ভার্চুয়ালবাসীরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে চিকিৎসক মহল এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

চিকিৎসকদের দাবি, একজন বিসিএস কর্মকর্তার সঙ্গে নন ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তা কখনও এমন অশোভন আচরণ করতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ সরকারি আচরণবিধির লংঘন।

তাদের মতে, কথোপকথন জুড়ে ওসির অভিব্যক্তি ছিলো ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশোভনীয় এবং ভদ্রতা বিবর্জিত। দাগী অপরাধীর সঙ্গেও এই সুরে কোন পুলিশ সদস্য কথা বলতে পারেন না।

চিকিৎসকরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রজাতন্ত্রের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। অপরদিকে, নন ক্যাডার কর্মকর্তা ওসি, ২য় শ্রেণি থেকে ক্রমান্বয়ে পদোন্নতি পেয়ে ১ম শ্রেণিতে উন্নীত হন। তাই ওসির পক্ষ থেকে এমন আচরণ সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর সুস্পষ্ট লংঘন।
ফেসবুকে তারা আরও মন্তব্য করেছেন, আপাতদৃষ্টিতে এ ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এ রকম ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই সারা দেশে ঘটছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু শাহাদাৎ মাহফুজের সঙ্গেও থানার এসআই এবং ওসি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

এ ব্যাপারে বিসিএস ৩৫তম ব্যাচের চিকিৎসক   বলেন, প্রতিটা সার্ভিসেই এরকম গুটিকয়েক অভদ্র থাকে। এদের জন্যই পুরো সার্ভিসের বদনাম হয়। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এদেরকে শাস্তির আওতায় না আনলে অভদ্রদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

ওসির বক্তব্য

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, ‘ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে আমার একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমিই একটু ভুল বুঝেছিলাম। তাই একটু রাগারাগি হয়েছিল। পরে আমরা দুই ভাই বসে সব ঠিক করে নিয়েছি’।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভুক্তভোগী ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ বলেছেন, ‘বিষয়টি আর এখন আমাদের দুইজনের মধ্যে নেই। দুটি কমিউনিটির বিষয় হয়ে গেছে। উনি উপজেলার সব কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দের সামনে বসে একজন ডাক্তারকে বিনা দোষে অপমান করবেন, হুমকি দেবেন আর গোপনে মীমাংসা হয়ে যাবে এটা ঠিক না। এ ধরনের ঘটনাকে দেশের সব ডাক্তারকেই অপমান করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


চিকিৎসকের সঙ্গে ওসি আলোচিত সেই কথোপকথন-

ওসি: আসসালামু আলাইকুম

চিকিৎসক: ওয়ালাইকুমুস সালাম

ওসি: ডক্টর আবদুল্লাহ সাহেব বলছেন?

চিকিৎসক: জ্বী বলছি, বলুন?
ওসি: আমি থানা থেকে ওসি বলছি চিকিৎসক: জ্বী, আপনার নাম্বার সেভ আছে।

ওসি: আচ্ছা, শুনেন, রেপ না অ্যাটেম্প টু রেপ? এটা কী বুঝবো? কী লেখছেন আপনি?

চিকিৎসক: না, আমি তো কিছু লিখি নাই!

ওসি: এই যে বাচ্চা মেয়ে গেল না? (রাগতস্বরে) চিকিৎসক: কোনটার কথা বলতেছেন আপনি?

ওসি: এই যে একটু আগে (গিয়েছিল) চিকিৎসক: আমি তো ডিউটিতেই নাই। আপনি আমাকে এভাবে বলতেছেন কেন?

ওসি: তাহলে আপনাকে কোনভাবে বলবো?

চিকিৎসক: আপনি অফিসিয়াল (হাসপাতালের) নাম্বারে ফোন দেন।

ওসি: আপনাকে কোনভাবে বলবো? আপনি এখন দায়িত্বে আছেন না?

চিকিৎসক: না। এখন আমি দায়িত্বে আছি না। আপনাকে বলছি, অফিসিয়াল একটা নাম্বার আছে, হাসপাতালের নাম্বার। ওই নাম্বারে ফোন দেন।

ওসি: ঠিক আছে। আপনি গরম হইয়া কথা বইলেন না। বুঝতে পারছেন?

চিকিৎসক: না না। আপনিই তো গরম হয়ে কথা বলছেন।

ওসি: আপনারা যদি কোনো কিছু গোপন রাখেন, কোনো কিছু করেন তাহলে আপনাকে সুদ্ধা (সহ) মামলায় ঢুকায়া দেবো। চেনেন আমারে?

চিকিৎসক: নো.. নো…

ওসি: চেনেন আমারে…

চিকিৎসক: আপনি এভাবে কথা বলতেছেন কেন?

ওসি: আপনি চেনেন আমাকে? কে আমি?

চিকিৎসক: আপনি কেন এভাবে কথা বলতেছেন?

ওসি: (অস্পষ্ট) …..

যে ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে ওসির হুমকি

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি গম ক্ষেতে নিয়ে ওই দুই বখাটে যুবক সিমন ও ফাহিম পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অভিযোগের পর চিকিৎসক ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলমত পেয়েছেন ।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির চাচা জানান, এ বছর শিশুটিকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ছে। মঙ্গলবার ছুটির কারণে শিশুটি বাড়িতে ছিল। তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। মা বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটিকে দুই বখাটে বাড়ির পাশের গম ক্ষেতে টেনে নিয়ে যায়। বখাটে সিমন ও ফাহিম সেখানে ওই শিশুটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আহতাবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার রাসেল বলেন, পরিবারের লোকজন শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে তাকে পরীক্ষা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর জেলা সদরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সূত্রঃ Public Services Help Group

বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়, বিদেশে টাকা পাচারে

বিদেশে টাকা পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে এখন বাংলাদেশ। এক নম্বরে আছে ভারত।ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি(জিএফআই) এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, কেবল ২০১৫ সালেই বাংলাদেশ থেকে চার প্রক্রিয়ায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। যা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার সমান। এ টাকার বেশিরভাগ বৈদেশিক বাণিজ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার করা হয়। একই পদ্ধতিতে একই বছর দেশে ঢুকেছে ২ শ’ ৩৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।

বিদেশে টাকা পাচারে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। জিএফআই’র মতে, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশই কোনো না কোনোভাবেই পাচার হচ্ছে।

জিএফআই’র প্রতিবেদনে ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৪৮টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থ পাচারের তথ্য উঠেছে। এ সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

২০১৫ সালে টাকা পাচারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ওই দেশ থেকে পাচার হয়েছে ৪ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে ৩ হাজার ৩৭০ কোটি ছাড়াও ভিয়েতনাম থেকে ২ হাজার ২৫০ কোটি, থাইল্যান্ড ২ হাজার ৯০ কোটি, পানামা ১ হাজার ৮৩০ কোটি এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।

পরিচয় গোপন রেখে মন্ত্রীর ফোন, জানতে চাইলেন তথ্য

একবছর আগে চালু হওয়া ই-কৃষি সেবার লক্ষ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি বাতায়ন’ ও ‘কৃষক বন্ধু’ ফোন সেবার মান এবং কৃষি তথ্য পেতে মাঠ পর্যায়ের দু’জন কৃষি কর্মকর্তাকে ফোন করে কথা বলেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ‘৩৩৩১’ নম্বরে ফোন করে দুই কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন কৃষি তথ্য পেয়েছেন মন্ত্রী।
 
মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের (এটুআই) সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিষয়ক আলোচনা সভায় দুই কর্মকর্তাকে ফোন দেন।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতবছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ই-কৃষি সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি বাতায়ন’ ও ‘কৃষক বন্ধু ফোন সেবা’র উদ্বোধন করেন।
 
মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীর সঙ্গে কৃষকের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, কৃষি গবেষণার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের সংযোগ সাধন, কৃষি তথ্যভিত্তিক জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিবিধ প্রতিবেদন আদান-প্রদান সহজ করতে ‘কৃষি বাতায়ন’ তথা ‘৩৩৩১’ চালু করা হয়।
 
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৩৩৩১ নম্বরে ফোন করে দু’টি জেলায় কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
 
‘মন্ত্রী মহোদয় ফরিদপুর জেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই সময়ে কী কী ফসল চাষ হচ্ছে, কৃষিপণ্যের মূল্য ইত্যাদি জানতে চান। তবে মন্ত্রী তার পরিচয় দেননি।’
 
পরে মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ই-কৃষি সেবার লক্ষ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি বাতায়ন’ এবং ‘কৃষক বন্ধু’ ফোন সেবা। কৃষি বাতায়ন সেবা এমন একটি সেবা যার দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা যে কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে কৃষি সম্পর্কিত প্রশ্ন করা যাবে এবং এর উত্তরও পাওয়া যাবে।
 
মোবাইল ফোন সংযোজনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স এগ্রিকালচার তথা ই-কৃষির প্রচলন টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফোন শুধু কথা বলার জন্যই নয়। অনলাইন, ডিজিটাল সেন্টার ও কৃষকদের জন্য চালু করা অ্যাপ থেকে সব রকম তথ্য তারা পেতে পারেন। এর ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের বাজারদর জানতে পারবেন। কোন জেলায় কী কী ফসল উৎপন্ন হচ্ছে মোট ফসলের উৎপাদন ওই এলাকার ফসলের মূল্য জানা যাবে। ফলে সহজে কেউ আর কৃষকদের ঠকাতে পারবে না।
 
বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কৃষককে ডিজিটাল সেবার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের ফসলের যে সব সমস্যা হয় তার সমাধান করতে পারেন। এটি কৃষকদের জন্য খুবই উপকার হবে। কৃষক সমাজকে সচেতন হতে হবে।
 
কৃষিমন্ত্রী গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে সবাইকে ইনোভেটিভ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কী করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা যায় এবং খাদ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের উপায় বের করতে হবে। উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তিকে কৃষকের খামারে ব্যবহার করতে হবে।
 
জনসংযোগ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাতায়নে এ পর্যন্ত ৭৯ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। কৃষকের ডাটাবেজ দ্বারা তার শিক্ষা, জীবনাচার,পরিবার ও অন্যান্য পেশা সম্পর্কে জানা যাবে যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। পর্যায়ক্রমে তিন কোটি কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।
 
অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এটুআই এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯