নবী করিম (সা:) কিয়ামতের দিন যাদের জন্য সুপারিশ করবেন

ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়ায় মানুষ কত কিছুই না করছেন। আল্লাহ তা’য়ালার আদেশ অমান্য করে বিপথগামী হচ্ছেন। এটা সন্দেহাতীত যে, মৃত্যুপরবর্তী রোজ কিয়ামতে হাশরের ময়দানে শুধু হযরত ইব্রাহিম (রা.) ব্যতীত প্রতিটি মানুষকে খালি পাও, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে এবং বেহেশত ও দোযখের চূড়ান্ত ফায়সালা হবে।

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি এক দাওয়াতে নবী করীম (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি এরশাদ করেন, আমি কিয়ামতের দিন সকলের সর্দার হব। সে কঠিন দিনে কষ্ট সাইতে না পেরে মানুষ অস্থির হয়ে যাবে এবং কার দ্বারা সুপারিশ করলে আল্লাহ্ কবুল করবেন সে রূপ লোক তালাশ করতে থাকবে।

অতপর অন্যান্য নবীগণের নিকট হতে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষে সমস্ত লোক হুজুর (সা.)-এর কাছে এসে বলবে আপনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, আমাদের কষ্ট তো আপনি দেখেছেন, এখন দরবারে এলাহীতে আমাদেরও জন্য সুপারিশ করুন যাতে আমাদেরকে পরিত্রাণ দেয়া হয়। নবীজী (সা.) বলেন, আমি তখন আল্লাহ্র আরশের নিচে এসে সিজদায় পড়ে কান্নাকাটি করতে থাকব। অতপর আল্লাহ্ও তরফ থেকে বলা হবে, আপনি মাথা উঠান এবং ফরিয়াদ পেশ করুন। আপনার ফরিয়াদ কবুল করা হবে।হুজুর (সা.) তখন মাথা উঠাবেন এবং বলবেন, হে প্রভু! তুমি আমার উম্মতগণকে ক্ষমা কর।

আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, হে আমার প্রিয় নবী! আমার বেগোনাহ বান্দাদেরকে বেহেশতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করান। এতদ্ব্যতীত অন্য দরজা দিয়েও ইচ্ছে করলে ঢুকাতে পারেন। সে বিচারে একমাত্র যিনি সুপারিশ করতে পারবেন তিনি আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)। হযরত আউফ বি মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমার কাছে আল্লাহ্ তা’য়ালার কাছে থেকে এক দূত এসে জানালেন যে, আল্লাহ্ তা’য়ালা আমাকে দুটি প্রস্তাব দিয়ে পাঠিয়েছেন। এ দুটির মধ্যে থেকে যেকোনো একটি গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তাব দুটি হলো আমার অর্ধেক উম্মতকে বিনা হিসেবে বেহেশতে দেয়া হবে অথবা আমি যেকোনো উম্মতের জন্য আমার ইচ্ছেমত সুপারিশ করতে পারব।

আমি সুপারিশ করার ক্ষমতাটাকেই গ্রহণ করেছি। কাজেই অমি মুশরিক ব্যতীত সকলের জন্য শাফায়াত করব। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন যে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ তা’য়ালা সকল নবীগণকেই একটি বিশেষ ক্ষামতা দিয়েছেন। তা এটাই যে, তাদের একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করা হবে। সকল নবীই প্রয়োজন মোতাবেক এক একটি জিনিস চেয়ে নিয়েছেন এবং তারা সকলেই পার্থিব জিনিস চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের নবীজী এরশাদ করেছেন, ‘আমি এ সুযোগ পৃথিবীতে গ্রহণ করিনি। রোজ হাশরে আমি আমার প্রাপ্য আদায় করবো এবং তা হবে আমার উম্মতের নাজাতের জন্য সুপারিশ করা।’

১. হাশরের ময়দানে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে অতি শিগগিরই হিসাব-নিকাশের কাজ শুরু করার জন্য সকল নবীগণের কাছে যেতে শুরু করবে। কিন্তু সকলেই অপরাগতা প্রকাশ করার পর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কাছে উপস্থিত হবে এবং তিনি পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতির জন্য সুপারিশ করবেন।

২. দ্বিতীয় সুপারিশ হবে প্রথম দরজার মু’মিনগণকে হিসাব-নিকাশ ছাড়াই বেহেশতে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার জন্য। এটাও শেষ নবীই (সা.) করবেন।

৩. তৃতীয় সুপারিশ হবে যারা স্বীয় অপকর্মের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার উপযুক্ত হয়ে পড়েছে তাদেরকে ক্ষামা করে দেয়ার জন্য। এ সুপারিশ নবীজী করবেন। এতদ্ব্যতীত ওলামা, শুহাদা এবং অন্যান্য মু’মুমিনগণও করবেন।

৪. চতুর্থ সুপারিশ হবে ঐ সকল গোনাহগারদের জন্য যাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করা হয়েছে তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য আরজ পেশ করা হবে। আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং ফেরেশতাগণ এজন্য সুপারিশ করবেন।

৫. পঞ্চম সুপারিশ করা হবে যাদেরকে বেহেশতে দাখিল করা হয়েছে তাদের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়ার জন্য।

ঘুণে ধরা হাসপাতালে ভিড়! বিনামূল্যে ১০ মাসে ৮৪১ অপারেশন!!

এক যুগ পর এই প্রথম হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও অর্ধযুগ পর অ্যাম্বুলেন্স পুনরায় চালু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবার পাশাপাশি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। অপারেশন থিয়েটার চালুর পর থেকেই চলছে অপারেশন কার্যক্রম। মাত্র ১০ মাসে ৮৪১ টি অপারেশন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও ১৪ বছর পর ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার জন্য মেরামত করা হয়েছে জেনারেটর সার্ভিস।

বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে বেসরকারি ক্লিনিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। ভিড় করছেন হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচে মানসম্মত সেবা পেয়ে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ঘুণে ধরা হাসপাতাল পরিবর্তন করার কারিগর হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সলিমুল্লাহ।

তিনি মাত্র ১০ মাসে পাল্টে দিয়েছেন হাসপাতালের চিত্র। উপজেলার সাধারণ মানুষের দোড়গড়ায় পৌছে দিয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা। কর্মদক্ষ এ চিকিৎসককে সবসময় সহযোগিতা করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছেন ডা. রাবেয়া, ডা. মোস্তফা কবির, ওটি ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন, পলি খাতুন, তানজিলা ইয়াসমিন, হাবিবা খাতুন, রবিউল ইসলাম, পলি আক্তার, ওটি এসিসটেন্ট রানা প্রমুখ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ১২জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে গাইনী মেডিসিন, অর্থো-সার্জারি , নাক-কান , গলা , চর্ম ও যৌন , এনেসথেসিস্ট ছাড়াও ৪ জন মেডিকেল অফিসার চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। আন্ত:বিভাগে প্রতিবন্ধী, প্রসুতী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিছানা, ভর্তিকৃত রোগীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো, নরমাল ডেলিভেরি। জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের সেবা প্রদানের পাশাপাশি মোবাইল কলের মাধ্যমে (০১৭৩০-৩২৪৬২৮) রয়েছে ২৪ ঘন্টা সেবা। আর বহিঃবিভাগে মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি সার্জারি, ইএনটি, চর্ম ও যৌন, ডেন্টাল সেবাসহ চালু আছে আইএমসিআই ও পুষ্টি, ব্রেস্ট ফিডিং, প্রসব পূর্ব সেবা, প্রসব পরবর্তী সেবা কর্ণার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৮ অক্টোবর অপারেশন থিয়েটার চালুর পর এ পর্যন্ত অ্যাপেন্টিক্স, সিজার, হার্নিয়া, পাইলস, ফিস্টুলা, পিত্তথলির পাথর ও জরায়ুর অপারেশনসহ ৮৪১ টি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

হাসপাতালে সরকারী সুবিধায় এমন সেবায় সন্তুষ্ট উপজেলাবাসী। এতে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে বলে অভিমত সচেতন মহলের।
হাসপাতালে নিজের সফলভাবে হার্নিয়া অপারেশনের বর্ননা দিয়ে মোকামতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হতো। তিনি বিনামুল্যে সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করায় খুশি।

মোলামগাড়ি এলাকার হতদরিদ্র সুমি খাতুনের সিজার ও আটমুল এলাকার দিনমজুর আক্কাস আলীর হার্নিয়া বিনামুল্যে অপারেশন হয়েছে হাসপাতালে। তারা বলেন, ক্লিনিকে তাদের অপারেশন করার সামর্থ্য ছিল না। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশনের সুযোগ পেয়ে তারা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সলিমুল¬াহ আকন্দ বলেন, স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে যোগদানের পর সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে হচ্ছেন। আধুনিক সেবা সরকারিভাবে দিতে গেলে আরো আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন।

হাসপাতালটিতে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও অপারেশন থিয়েটারের উন্নতমানের লাইট সংযোগের প্রয়োজন। এছাড়াও অবকাঠামোগত সমস্যা নিরসন ও জনবল কাঠামো বাড়ানো হলে সকল ধরনের অপারেশন করা সম্ভব হবে।

সাফা-মারওয়ায় সাঈ-তে হাজিগণ যে দোয়া পড়বেন…

সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের সাঈ হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য রোকন। আল্লাহ তাআলা সাফা মারওয়ার সাঈকে তার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে কুরআনে পাকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া (পাহাড় দুটি) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কাবাগৃহে হজ এবং ওমরা সম্পন্ন করে; তার জন্য এ (পাহাড়) দুটি প্রদক্ষিণ (সাঈ) করলে কোনো পাপ নেই।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৮)

হজ ও ওমরার রোকন এ সাঈ আদায় করার সময় রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

– কাবা শরিফ তাওয়াফের পর মাকাকে ইবরাহিমে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করে সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে মসজিদে হারামের বাবুস সাফা দিয়ে সাফা পাহাড়ে আরোহন করবে আর এ আয়াত পাঠ করবে-
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ : ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৮)

– অতঃপর কেবলামুখী হয়ে আলহামদুলিল্লাহি আল্লাহু আকবার (اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَللهُ اَكْبَر) বলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

– অতঃপর এ দোয়াটি ৩ বার পড়ে সাফা পাহাড় থেকে মারওয়ার দিকে সাঈ শুরু করা-
لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – لَهُ المُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ يُحْيِى وَ يُمِيْتُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيئ قَدِيْر
لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ أنْجَزَ وَعْدَهُ – وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হাম্দু ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু আনজাযা ওয়াহদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু হাযাামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।’

সাফা থেকে মারওয়ার দিকে সাঈ’র শুরুতে সবুজ চিহ্নিত স্থান পড়বে; সেখানে পুরুষরা দৌড়ে অতিক্রম করবে আর নারীরা স্বাভাবিকভাবে হেটে তা অতিক্রম করবে।

সবুজ চিহ্নিত স্থানে এ দোয়া পড়া-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

– সবুজ চিহ্নিত স্থান অতিক্রম করার পর পুরুষ-নারী সবাই স্বাভাবিক গতিতে হেটে সাঈ করবে। সাঈ’র সময় স্বাভাবিকভাবে এ দোয়া বেশি বেশি পড়বে-
اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ
اَللَّهُمَّ حَبِّبْ اِلَيْنَا الْاِيْمَانَ وَ كَرِّهْ اِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَ وَاجْعَلْنَا مِنْ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ইমানা ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা ওয়াল ফুসুক্বা ওয়াল ইসয়ানা ওয়াঝআলনা মিন ইবাদিকাস সালিহিন।’

– অতঃপর মারওয়া পাহাড়ে আরোহন করে দোয়া করা। মারওয়া থেকে সাফার দিকে যাওয়ার সময় আবার এ দোয়া পড়া-
اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ – لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ صَدَقَ وَعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ
وَ لَا نَعْبُدُ اِلَّا اِيَّاهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرُوْنَ – رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু সাদাক্বা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা নাবুদু ইল্লা ইয়্যাহু মুখলিসিনা লাহুদদ্বীন ওয়া লাও কারিহাল কাফিরুন। রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম। ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’

– অতঃপর মারওয়া থেকে সাফা পাহাড়ে আসার সময়ও সবুজ চিহ্নিত স্থানে পূর্বোল্লিখিত দোয়া পড়া-

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’

– এভাবে সাফা-মারওয়ায় সাঈ শেষ হওয়ার পর এ দোয়া পড়া-
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الَعَلِيْمُ – وَ تُبْ عَلَيْنَا اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحَيْمُ –
وَ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ وَّاَلِهِ وَ اَصْحَابِهِ اَجْمَعِيْنَ وَارْحَمْنَا مَعَهُمْ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাছ্ ছামিউল আলিম। ওয়অতুব্ আলাইনা ইন্নাকা আংতাত্ তাওয়্যাবুর্ রাহিম। ওয়া সাল্লাল্লাহু তাআলা আলা খাইরি খালক্বিহি মুহাম্মাদিউ ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাইন ওয়ারহামনা মাআহুম বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ ও ওমরা পালনকারীদেরকে সাফা ও মারওয়ার সাঈ পালন করার সময় যথাযথভাবে দোয়া পড়ার এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। হজে মাবরুর কবুল করুন। আমিন।

ঢা‌বি‌তে শোক দিব‌সের সভা শে‌ষে ছাত্রলীগের মারামারি…

শোক দিবসের আলোচনা সভা শেষে আগত নেতা‌দের প্রটোকল দেয়া নিয়ে নি‌জে‌দের ম‌ধ্যে মারামা‌রি‌তে জড়িয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে এ ঘটনা ঘটে।

সকালে শোক দিবস উপলক্ষে টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাই‌নের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, টিএসসি মিলনায়তনে সমাবেশ শেষে জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাথে কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম বের হয়ে যান। এতে পিছনে পড়ে যান ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত। এদিকে নানকের সাথে বাকিরা থাকায় তাদের অনুসারীদের উপস্থিতিতে সেখানে বিরাট জটলা বেঁধে যায়। এ জটলার কারণে সনজিত টিএসসি থেকে বের হতে পারছিলেন না। বের হওয়ার সময় একুশে হলের একজনের সাথে ধাক্কা লাগায় সনজিত তাকে থাপ্পড় দেন। নানক চলে যাওয়ার পরে সনজিত শোভনকে বলেন, আপনার ছেলেদের কোনো ম্যানার শেখান নাই? তারা আমাকে বের হওয়ার জায়গা দেয় নাই কেন? এসময় সূর্যসেন হলের আসলাম নামক একজন তার প্রতিবাদ করে বলেন, কী ম্যানার শেখাতে হবে? তখন সনজিত আসলামকে মারধর করেন। এরপরেই দুই গ্রুপের নেতাকর্মীর ম‌ধ্যে মারামা‌রি শুরু হয়। প্রায় ১৫ মিনিটের মতো এ হাতাহাতি ও মারামারি চলে।

এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, টিএসসি প্রাঙ্গণে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়ায়। ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনকে দেখা গেছে। তবে, ছাত্রলীগের শীর্ষ এ চার নেতার কাউকেই হাতাহাতি থামাতে দেখা যায় নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমি আর শোভন ভাই কথা বলছিলাম। এসময় বাইরের কয়েকজন এসে সেখানে চিল্লাচিল্লি করছিল। আমরা তাদের চিনি না। কেউই চিনে না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হতেও পারে নাও হতে পারে। আমি শিউর না। পোলাপানের সাথে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল, তারা ওদেরকে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা তাদের থামিয়ে দিয়েছি। পরে ২ জনকে মারধরের বিষয়ে জানতে তাকে আবার কল দেয়া হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে ঘটনাস্থ‌লে সাংবা‌দিক‌দের‌কে সাদ্দাম জা‌নি‌য়ে‌ছেন যে হাতাহাতিতে জড়ানোরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জুনিয়র নেতাকর্মী। তবে তিনি ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির বিষয়ে অস্বীকার করেছেন। যদিও প্রমাণ দেয়ার পরে স্বীকার করে‌ন তি‌নি।

প‌রে এ বিষ‌য়ে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসাইন বলেন, টিএসসিতে গোলযোগ হয়েছে বলে আমার জানা নেই। জুনিয়রদের মধ্যে মনে হয় কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে সিনিয়ররা কিছুই করেনি। আমরা তা দেখিনি। গোলযোগের সময়ে আমরা সেখানে ছিলাম না। আমরা আসার পরে তা হয়ে থাকতে পারে। ভিডিওতে আপনাদের দেখা যাচ্ছে বললে তারপর তিনি উপস্থিতির কথা স্বীকার করেন। বলেন, সিনিয়ররা গিয়ে জুনিয়রদের থামাইছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দামেস্কের পরেই বসবাসের ‘অযোগ্য’ শহর ঢাকা

বিশ্বের কোন কোন শহর বসবাসের জন্যে সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ – তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ইআইইউ। সেই তালিকার দুই নম্বরে আছে ঢাকা। তবে সেটা নিচের দিক থেকে। অর্থাৎ বসবাসের অযোগ্য হিসেবে বিশ্বের যেসব শহরের নাম করা হয়েছে সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে ঢাকা শহরের নাম।

আর সবচেয়ে অযোগ্য শহর হচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের রাজধানী দামেস্ক। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট প্রতি বছর এরকম একটি তালিকা প্রকাশ করে থাকে। এবছর ১৪০টি শহরের উপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এবছরের তালিকায় বসবাসের জন্যে সবচেয়ে উপযোগী শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার নাম। তার পরে আছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন।

গত সাত বছর ধরে মেলবোর্ন শহর শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছিল। এবছরের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার আরো দুটো শহরের নাম এসেছে প্রথম দশটি দেশের তালিকায়। এই দুটো শহর হচ্ছে সিডনি ও অ্যাডেলেইড। টপ টেনে জায়গা করে নিয়েছে কানাডার তিনটি শহর- ক্যালগারি, ভ্যানকুভার ও টরন্টো।

ঢাকার এই অবস্থা কেন
এই মাপকাঠির একেবারে নিচে যে শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেটি যুদ্ধ-কবলিত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। জরিপ অনুযায়ী, বসবাসের জন্যে সবচেয়ে অযোগ্য শহর এটি। তারপরেই এসেছে বাংলাদেশের ঢাকা ও নাইজেরিয়ার লাগোস শহরের নাম। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, তালিকার সবচেয়ে নিচের দিকে যে দশটি শহরের নাম এসেছে সেগুলো নির্বাচন করতে গিয়ে অপরাধ, সামাজিক অস্থিরতা, সন্ত্রাস ও যুদ্ধের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।

ঢাকার নাম নিচের দিক থেকে দু্‌ই নম্বরে উঠে আসার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে এতে মোটেই অবাক হননি নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, গত কয়েক বছর ধরেই এই জরিপে ঢাকার অবস্থা এরকমই। আর এই অবস্থার জন্যে দায়ী জনঘনত্ব অর্থাৎ একই পরিমাণ জায়গায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোকের বসবাস।

তিনি বলেন, ‘মেলবোর্ন বা ভিয়েনার সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে ওই দুটো শহরে জনঘনত্ব এতোটাই কম যে ওই দুটো শহরের সাথে সরাসরি ঢাকার মতো অতি জনঘনত্বের একটি শহরকে তুলনা করা যায় না।’

সরকারি হিসেবে ঢাকায় বর্তমান জনসংখ্যা এক কোটি ৬৫ লাখ। আর প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করেন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। ‘এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কারণে ঢাকা শহর বারবার পিছিয়ে পড়ছে’ বলে মনে করেন তিনি।

কিন্তু যুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি শহর দামেস্কের পরেই কেন ঢাকার অবস্থান এই প্রশ্নের জবাবে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, ‘ব্যাপক জনঘনত্বের কারণে সব ধরনের সেবা, সুযোগ, সম্ভাবনা সবকিছু একটা বড় রকমের চাপের মুখে পড়ে গেছে। আর একারণেই ঢাকার অবস্থা যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যান্য শহরের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

এর পাশাপাশি শহর পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের শিথিলতা ও অদক্ষতাকেও দায়ী করেছেন তিনি। সাম্প্রতিককালে ঢাকার গুলশানে সন্ত্রাসী হামলা কিংবা উগ্রবাদী তৎপরতার কারণে ঢাকা সম্পর্কে এরকম একটা ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে কিনা – এই প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ‘সেটি তুলনা করলে করাচি, লাহোর কিংবা অন্যান্য শহর কী কারণে আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে! জঙ্গি হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পৃথিবীর আর কয়টা দেশ এতো দ্রুত, এতো সমস্যাসঙ্কুল অবস্থার মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে?’ পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।

বাংলাদেশে সরকার দাবি করে যে প্রচুর উন্নয়ন হচ্ছে। তাহলে শহরের এই অবস্থা কেন – জানতে চাইলে ইকবাল হাবিব বলেন, ‘শহরেরও
উন্নয়ন হচ্ছে; কিন্তু নীতিগত এসব পরিবর্তন খুব ধীর গতিতে হচ্ছে বলে এই উন্নয়নকে সর্বব্যাপী করা সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি মনে করেন, ঢাকার মতো একটি শহরকে জনবান্ধব করা যতোটা কঠিন, পৃথিবীর আর কোন শহরকে জনবান্ধব করা এতোটা কঠিন নয়। তবে তিনি মনে করেন, ঢাকার অবস্থা একদিনেই এরকম হয় নি এবং খুব তাড়াতাড়ি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব বলেও তিনি বিশ্বাস করেন না।

কেন শীর্ষে ভিয়েনা
এই প্রথম এরকম একটি তালিকার শীর্ষে উঠে এলো ইউরোপীয় একটি শহরের নাম। যেসব বিষয়ের কথা বিবেচনা করে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা, অপরাধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। এই জরিপটির সম্পাদক রোক্সানা স্লাভচেভা বলেছেন, ‘পশ্চিম ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। তালিকার শীর্ষে ভিয়েনার উঠে আসা থেকে বোঝা যায় যে ইউরোপের বেশিরভাগ জায়গাতেই স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।’

জরিপ অনুসারে, প্রায় অর্ধেক সংখ্যক শহরের অবস্থা গত বছরের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বসবাসযোগ্য শহর ২০১৮
১. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া

২. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া

৩. ওসাকা, জাপান

৪. ক্যালগিরি, কানাডা

৫. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

৬. ভ্যানকুবার, কানাডা

৭. টোকিও, জাপান

৮. টরন্টো, কানাডা

৯. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক

১০. অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া

বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহর ২০১৮
১. দামেস্ক, সিরিয়া

২. ঢাকা, বাংলাদেশ

৩. লাগোস, নাইজেরিয়া

৪. করাচি, পাকিস্তান

৫. পোর্ট মোর্সবি, পাপুয়া নিউগিনি

৬. হারারে, জিম্বাবুয়ে

৭. ত্রিপোলি, লিবিয়া

৮. দোয়ালা, ক্যামেরুন

৯. আলজিয়ার্স, আলজেরিয়া

১০. ডাকার, সেনেগাল

পূর্বের চেয়ে চারগুণ আয় বেড়েছে আওয়ামী লীগের…

নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের আয়-ব্যয় সম্বলিত বার্ষিক হিসাব জমা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে বার্ষিক হিসাব জমা দেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর।

জমা দেয়া হিসাবে দেখা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের আয় বেড়েছে চার গুণেরও বেশি। একই অনুপাতে বেড়েছে ব্যয়ও।

এসময় আব্দুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের আয় ছিল ২০ কোটি ২৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৬ টাকা। এ বছর দলটির ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৯ টাকা। বছর শেষে উদ্বৃত্ত ছিল ৬ কোটি ৬১ লাখ ৪৮ হাজার ১১৭ টাকা।

এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের আয় ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭ টাকা এবং ব্যয় ৩ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৯ টাকা।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বলেন, এ বছর আমরা দলের নতুন কার্যালয় নির্মাণ করেছি। এ কারণে শুকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অনেক দান-অনুদান এসেছে। ফলে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে আমাদের আয় ও ব্যয় অনেক বেড়েছে। গত বছর ভবন নির্মাণের জন্য আমরা ১০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছি। সমপরিমাণ অর্থই ভবন নির্মাণের পেছনে খরচ হয়েছে।

আব্দুস সোবহান গোলাপ জানান, নেতাদের মাসিক চাঁদা, জেলাভত্তিক প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ফি, সংসদ সদস্যদের ফি, সংরক্ষিত নারী আসরের মনোনয়ন ফরম বিক্রি, প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রি, জেলা মঞ্জুরি ফি, ভবন নির্মাণের জন্য অনুদান, ব্যাংক সুদ ছিল ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের আয়ের উৎস। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রকাশনা, পোস্টারিং, নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের আপ্যায়ন এবং ভবন নির্মাণ ছিল দলের ব্যয়ের খাত।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে প্রতিবছর আর্থিক লেনদেনের হিসাব দেয়ার বাধ্যবাধকতায় আনা হয়। কোনো দল পরপর তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসেব জমা না দিলে ইসি চাইলে তার নিবন্ধন বাতিল করতে পারে।

FacebookTwitterGoogle+

চট্টগ্রামে আসল দুদকের হাতে নকল দুদক কর্মকর্তা গ্রেফতার

চট্টগ্রাম জেলা সদর ভূমি রেজিষ্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন যাবত দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে সুযোগ নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা ভূমি রেজিষ্ট্রি কমপ্লেক্স এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম চৌধুরী, তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দ গ্রাম উপজেলার আলকরা গ্রাম বলে নিশ্চিত করেন দুদক অফিস। এই ভুয়া দুদক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিজেকে দুদকের অফিসার পরিচয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতো এবং চাঁদাবাজি করত বলে জানান দুদকের এক উপ-পরিচালক।

এছাড়াও জেড এম ইমরান আলী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লক্ষ টাকার চাঁদা দাবি করেন তিনি। পরে ওই ভূয়া দুদক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়। দুদকের পক্ষ থেকে এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দুদক সহকারি পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, এভাবে দুদকের ভূয়া পরিচয় দিয়ে দালাল/ ভূয়া অফিসার/ একটি চক্র চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় থেকে দুদকের সুনাম নষ্ট করছেন। অনুরূপ কোন অভিযোগ থাকলে দুদকের হটলাইন ১০৬ নাম্বারে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।

নরেন্দ্র মোদির জন্য পাত্রী খোঁজেন ট্রাম্প!!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টানটা মনে হয় একটু বেশিই। আর এ কারণেই হয়তো মোদির একাকীত্ব ঘোঁচাতে পাত্রী খুঁজছিলেন ট্রাম্প!

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য ট্রাম্পের ওই ঘটকালির কথা এবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

বিভিন্ন সময় ট্রাম্প মুখ ফসকে কী কী বলেছেন- তার একটি লম্বা তালিকা আছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে। সেখানে মোদির জন্য মেয়ে দেখার প্রসঙ্গও সেখানেই এসেছে। গত বছর মোদির মার্কিন সফরের ঠিক আগেই ঘটনাটি ঘটেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

হোয়াইট হাউসের আমন্ত্রণে সাধারণত রাষ্ট্রনায়করা সস্ত্রীকই আসেন। কিন্তু মোদির সফর নিয়ে বিপাকে পড়েন হোয়াইট হাউসের কর্মীরা।

তারা ট্রাম্পকে বলেছিলেন, মোদির সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ নেই। ট্রাম্প সে কথা শোনামাত্র বলে ওঠেন, ‘তাই নাকি! দেখি তা হলে, এখানে মোদির জন্য কাউকে পাই কিনা!’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা হুকাবি পরে অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘রাষ্ট্রনেতাদের অনেকের সঙ্গেই ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে খোলামেলা কথাবার্তাই হয়!’ ট্রাম্পের ভূগোল-জ্ঞান সম্পর্কেও নানা খবর চাউর হয়েছে। মোদির সফরের আগেই সেবার ট্রাম্প দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রটা ভালো করে দেখছিলেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর হাতে পুলিশ লাঞ্ছিতের ছবি ভাইরাল, মামলা…

ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সারা দেশে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ যখন ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করছে, তখন চট্টগ্রামে উল্টোপথে আসা মোটরসাইকেল আটকানোর দায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী কর্তৃক দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দেয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঘটনার পর এক সার্জেন্ট মামলা দায়ের করেছেন ছয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

কোতয়ালী থানা সূত্র জানায়, দায়িত্বরত সার্জেন্ট ও পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিতের অভিযোগে ছয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সোমবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে মামলা দায়ের করেন ট্রাফিক সার্জেন্ট মাজহারুল আলম সোহাগ। গত রোববার দুপুরে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা শিবু ভট্টাচার্য্য, মো. মেহেরাজ, জয়, এনামুল হক, ফয়সাল ও আদর। এদের মধ্যে মেহেরাজ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বাকিরা সবাই সরকারি সিটি কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের নেতা।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সড়কে দায়িত্ব পালনকালে এক সার্জেন্টের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় পুলিশের কাজে বাধাদানসহ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ৩৩২, ৩৫৩, ৩০৭, ৫০৬ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

মামলার সূত্রে জানা যায়, রোববার (১২ আগস্ট) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা মেহেরাজ ও তার কয়েকজন বন্ধু উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালিয়ে নগরের কোতোয়ালী থানার নিউমার্কেট এলাকায় আসেন। এসময় তার মাথায় হেলমেটও ছিল না। ঘটনার সময় নিউমার্কেট মোড়ে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মাজহারুল আলম সোহাগ মেহেরাজের বিরুদ্ধে মামলা দেন।

মামলার পর মেহেরাজ তার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে নিউমার্কেট মোড় পুলিশ বক্সে গিয়ে সার্জেন্ট ও সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। সার্জেন্ট মামলার বিষয়ে আপসে না আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার রাজনৈতিক বড় ভাইদের ডেকে এনে ওই সার্জেন্ট ও পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া দেয়।

পরে পুলিশকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়ার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ যুবক এক পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিচ্ছে। ধাওয়ার এক পর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকে কিল-ঘুষি দেয়ার চেষ্টা করছে ওই যুবকরা।

কারা গোপনে আপনার ফেসবুক প্রোফাইল দেখছেন? জানুন এই কৌশলে

ফেসবুক এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া। কম-বেশি সকলেই চেষ্টা করেন, নিজের ফেসবুক প্রোফাইলটিকে যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় করে তোলার। কিন্তু সত্যিই আপনার প্রোফাইলের প্রতি কারা আকৃষ্ট হচ্ছেন, অথবা কারা আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে ভিজিট করছেন, কারাই বা নজর রাখছেন আপনার প্রোফাইল এবং পোস্টের উপর, তা জানার কোনও অপশন সাধারণ ভাবে ফেসবুক আপনাকে দেয় না।

তা বলে এই কৌতূহল মেটানো একেবারেই অসম্ভব, তা কিন্তু নয়। অতি সহজ একটি কৌশলে আপনি জেনে নিতে পারেন, কারা আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের ভিজিটর। জেনে নিন, কী ভাবে কার্যকর হবে সেই কৌশল:

১. প্রথমে কোনও কম্পিউটার থেকে গুগল ক্রোম ব্রাউজার খুলুন। ফেসবুকে লগ ইন করুন।

২. তার পর ডান দিকের উপরের কোণায় যে লম্বালম্বি যে তিনটি ডট চিহ্ন থাকে সেখানে ক্লিক করুন। অনেকগুলি অপশন খুলে যাবে। তার মধ্যে ‘সেটিংগস’টি
সিলেক্ট করুন।

৩. বাঁ দিকে উপরের দিকে ‘এক্সটেনশন’ নামের অপশনটি সিলেক্ট করুন। তার পর ক্লিক করুন ‘গেট মোর এক্সটেনশনস’ অপশনটি।

৪. সার্চ বক্সে গিয়ে সার্চ করুন ‘ফ্ল্যাটবুক’ (Flatbook). পেয়ে যাবেন ফ্ল্যাটবুক এক্সটেনশন।

৫. এক্সটেনশনের নামটির পাশে দেখবেন ‘অ্যাড টু‌ ক্রোম’ বলে একটি অপশন রয়েছে। সেটি সিলেক্ট করুন। এতে ওই এক্সটেনশন আপনার ক্রোম ব্রাউজারে অ্যাড হয়ে যাবে।

৬. এ বার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি রিফ্রেশ করুন বা নতুন করে ওপেন করু‌ন। একটু অন্য চেহারায় বা থিমে ফেসবুক পেজটি খুলে যাবে।

৭. এই পেজেই ডান পাশের প্যানেলে ‘প্রোফাইল ভিজিটর’ বলে একটি অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করলেই আপনার কোন কোন বন্ধু আপনার প্রোফাইল ভিজিট করেছেন তাঁদের নামের লিস্ট পেয়ে যাবেন।