সালমান শাহকে হারানোর ২২ বছর আজ!!!

পূর্ণ দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রে, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ক্যারিয়ার। হিসেবটা ৩ বছর ৫ মাস ১২ দিনের আর ২৭ টি চলচ্চিত্রের। এই স্বল্প সময়েই দেশ কাঁপিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ্‌ । আজ ৬ই সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা এই কিংবদন্তি নায়কের চলে যাবার ২২ বছর।

১৯৯৬ইং সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই রহস্যঘেরা মৃত্যু হয় সালমান শাহ্‌’র। বিদায়ের ২২ বছর পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টেলিভিশনের প্রতিবেদন দেখলে বোঝা যায় কতটা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন এ নায়ক। মানুষ এখনো তাকে নায়ক হিসাবে মনে করেন। তারপরও অনেক নায়ক এসেছেন পেয়েছেন জনপ্রিয়তাও কিন্তু সালমানের যে উদ্ধমতা, ফল আর প্রভাব। কেন জানি এক সিন্ধতা প্রভাব আর নিষ্পাপ ছায়া তার মুখ মন্ডলে। তাই হয়তো সালমান এখনো ২২ বছর আগের মতোই প্রানবন্ত, উজ্জ্বল এক নক্ষত্র হয়ে আছেন বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জের দারিয়া পাড়ায় নানার বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর পরিবারের বড় ছেলে সালমান। যদিও তার পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন কিন্তু চলচ্চিত্র জীবনে তিনি সবার কাছে ‘সালমান শাহ্‌’ বলেই পরিচিত ছিলেন।

সালমান শাহ্‌র মিডিয়ায় পদার্পন হানিফ সংকেতের হাত ধরেই। শুরুটা মিউজিক ভিডিও দিয়ে হলেও একে একে কাজ করেন বিজ্ঞাপন চিত্র ও নাটকে। কিন্তু চলচ্চিত্র জগতে সালমানের আসাটা ঠিক যেন এলাম দেখলাম আর জয় করলাম এর মতো।

১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ দেশের পেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল সালমান অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। এতে সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় সালমানের বিপরীতে অভিনয় করেন সে সময়ের জনপ্রিয় মডেল মৌসুমী। শুরু হয় সালমানের পথ চলা।

শুরুতেই নড়ে চড়ে বসলেন বাংলার দর্শক। বক্স অফিসে হিটের তালিকায় কেয়ামত থেকে কেয়ামত। এরপর একে একে মুক্তি পায়, ‘অন্তরে অন্তরে, স্নেহ, দেনমোহর, তুমি আমার (এই চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মত সালমানের বিপরীতে কাজ করেন শাবনূর), সেই থেকে জুটি হয়ে কাজ করেন ‘সুজন সখি, বিক্ষোভ, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, বিচার হবে, তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, জীবন সংসার, চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেম পিয়াসী, স্বপ্নের নায়ক, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভিতর আগুন সহ মোট ১৪ টি চলচ্চিত্র। এছাড়া অন্যান্য মিলে সর্বমোট ২৭ টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সালমান শাহ্‌।

মাত্র ৩ বছর ৫ মাস ১২ দিনে ২৭ চলচ্চিত্র। কিন্তু বেশ শক্ত একটা জায়গা করে নিয়েছিল এ অভিনেতা। শুরুটা মৌসুমীর বিপরীতে হলেও কাজ করেন শাবনূর, শাবনাজ, লিমা, বৃষ্টি, শিল্পী ও শ্যামা সাথে। এদের মধ্যে শাবনূরের সাথেই ২৭ টি চলচ্চিত্রের ১৪ টিতে কাজ করেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আব্দুর রহমান ও নায়ক রাজ রাজ্জাকের পরেই সালমান একমাত্র নায়ক যিনি সর্বমহলে তৈরী করেছিলেন তার গ্রহনযোগ্যতা। হয়ে উঠেছিলেন তরুনদের স্টাইল আইকন, তরুণীদের স্বপ্নের নায়ক। এতো কিছুর পরও পারিশ্রমিকের হিসাব কষতে বসেনি কখনো।

হঠাৎ করেই ১৯৯৬ইং সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনক না ফেরার দেশে পাড়ি জমান চির সবুজ এ নায়ক। ফিরে আর আসবেন না কখনোই তবুও সিনেমা প্রেমীদের কাছে সালমান বেঁচে থাকবেন স্বপ্নের নায়ক হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *