ভিকারুননিসার ছাত্রী আত্মহত্যায়, হাসপাতাল থেকে সটকে গেলেন অধ্যক্ষ

নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর (১৫) মৃত্যুর সংবাদ শুনে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস। সেখানে তিনি অরিত্রির স্বজনদের রোষানলের মুখে পড়েন। এ সময় তারা প্রিন্সিপালের গাড়ি ঘিরে রাখেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।

স্কুলের প্রিন্সিপাল নাজনীন সুলতানা বলেন, অরিত্রি তার মোবাইল ফোনে বইয়ের বেশ কিছু পাতার ছবি তুলে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে। বিষয়টি নজরে আসে শাখা প্রধানের। পরে শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে ডেকে এনে তাদের পুরো ঘটনা খুলে বলা হয়। এরপর অরিত্রিকে বহিষ্কারের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে মাত্র। বাবাকে অপমানের জন্য নয়, নকলে ধরা পড়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার লজ্জা থেকেই অরিত্রি আত্মহত্যা করতে পারে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দেয় সে। পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল ৪টার দিকে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অরিত্রি ভিকারুননিসা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা দিলীপ অধিকারী একজন কাস্টমস (সিঅ্যান্ডএফ) ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। অরিত্রি তার পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর শান্তিনগরে থাকত।

দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করেন, আজ তিনি স্ত্রী ও অরিত্রিকে নিয়ে স্কুলে যান। তার ছোট মেয়েও একই স্কুলে পড়ে। তাঁরা প্রথমে ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল তাঁদের ‘অপমান’ করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। আগামীকাল মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতেও বলা হয়। দিলীপ অধিকারী বলেন, এরপর তিনি প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। যেখানে স্কুল পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যও ছিলেন। প্রিন্সিপালও ভাইস প্রিন্সিপালের মতো আচরণ করেন।

দিলীপ অধিকারী বলেন, এ সময় অরিত্রি দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্ত্রীসহ তিনি বাড়ি গিয়ে দেখেন অরিত্রি তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। অরিত্রিকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তাঁরা। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, সুরতহাল করে অরিত্রির লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যু কারণ জানা যাবে।

ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়েছে। তার গলায় দাগ ছিল। তার ‘নেক টিস্যু’ সংগ্রহ করা হয়েছে, তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

এ ব্যাপারে ভিকারুননিসা স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস বলেন, মেয়েটি ক্লাস নাইনের বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছিল। মোবাইল ফোন নিয়ে সে অসদুপায় অবলম্বন করছিল। এই অবস্থায় শিক্ষকরা তাকে হাতেনাতে ধরে সোমবারের পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করেন।

তার দাবি, তারা যা করেছেন সেটা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনেই করেছেন। ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়ার হুমকির কথাও অস্বীকার করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *