পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সামিকে কুপিয়ে হত্যা…

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও সাবেক সিনেট সদস্য মাওলানা সামিউল হক তার নিজ বাসভবনে আততায়ীর হামলায় নিহত হয়েছেন।

তার ছেলে মাওলানা হামিদুল হকের বরাতে দেশটির ইংরেজি দৈনিক ডন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সামি উল-হকের ছেলে মাওলানা হামিদ উল-হক জিও টিভি’কে বলেন, রাওয়ালপিন্ডিতে নিজের বাসায় ‘কয়েকবার’ ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে তাকে।

‘আসরের সময় তিনি নিজের ঘরে বিশ্রাম করছিলেন। তখন তার ড্রাইভার-কাম-দারোয়ান মিনিট পনেরোর জন্য বাইরে গেল। সে ফিরে এসে দেখেন মাওলানা সামি উল-হক তার বিছানায় মরে পড়ে আছেন এবং তার শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

অন্যদিকে সামি উল-হকের ভাতিজা মোহাম্মদ বিলাল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তিনি তার চাচার মরদেহে ছুরি ও গুলির ক্ষত দেখেছেন। হত্যার উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পাকিস্তানে যখন ধর্মীয়-রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনে উত্তাল করে তুলেছে পরিস্থিতি তেমনই এক সময়ে এ ঘটনা ঘটলো। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক নারী আসিয়া বিবিকে মৃত্যুদন্ড বাতিল করে তাকে বেকসুর খালাস দেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

অভিযোগ আছে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)কে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন আসিয়া বিবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মাওলানা সামি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জমিয়ত উলেমায়ে ইসলামের একটি অংশের। এ অংশের প্রধান তিনি নিজে। কিন্তু আসিয়া বিবি ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন নি তিনি। এমন তথ্য দিয়েছেন তারই ছেলে মাওলানা হামিদ। ফলে ওই আন্দোলনের সঙ্গে এই হত্যার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।

মাওলানা হামিদ বলেছেন, তার পিতাকে অনেক কোপ দেয়া হয়েছে। তাকে কোপানের প্রায় ১৫ মিনিট পরে বাহরিয়া শহরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় মাওলানা সামির গাড়ির চালক ও প্রহরী।

মাওলানা সামির মুখপাত্র ইউসাফ শাহ বলেছেন, হামলাকারীর পরিচয় বা তাদের উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় নি। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহতের মৃতদেহ শুক্রবারই নেয়া হয় তার নিজ শহর আকোরা খাত্তাকে। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার বিকালে তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *