এইমাত্র পাওয়া গরম ব্রেকিং : দলীয় সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিএনপির ! তবে কি ?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ী ছয় নেতার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া না নেয়া নিয়ে  রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

বিএনপির নির্বাচিতদেরও অনেকের বক্তব্যেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।

কিন্তু দলের হাইকমান্ডের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রকাশ্যে কিছু বলেছেন না। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।

নির্বাচিতদের দাবি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে এলাকাবাসীর চাপ থাকলেও এ ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে চান না তারা।

দল শপথের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই চূড়ান্ত। সেই সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন।

এছাড়া এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত না হতে বিএনপির হাইকমান্ড নির্বাচিতদের সতর্ক করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কিছু করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার শর্তে খালেদা জিয়া চলতি মাসেই প্যারোলে মুক্তি পাবেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। কিন্তু প্যারোলে খালেদা জিয়া মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করাতে রাজি নন। এছাড়া দলের নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের শপথের বিষয়েও ইতিবাচক কোনো সাড়া দেননি বিএনপি প্রধান। ফলে নির্বাচিতদের খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথমদিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে বিজয়ী কেউ শপথ না নিলে তার আসন শূন্য হয়ে যাবে। সে হিসেবে আগামী ৩০ এপ্রিল ৯০ দিন পূর্ণ হবে। এ সময়ের মধ্যে শপথ না নিলে বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের আসন শূন্য হয়ে যাবে।

খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় গত বছরের অক্টোবরে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট ৮টি আসনে বিজয়ী হয়। এর মধ্যে বিএনপি ৬টি এবং গণফোরাম ২টি আসনে জয়লাভ করে। মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সিলেট-২ আসন থেকে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান নির্বাচিত হন।

নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট। একইসঙ্গে তারা একাদশ জাতীয় সংসদেও না যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গত ৭ মার্চ সুলতান মনসুর এবং ২ এপ্রিল মোকাব্বির খান শপথ নেন। শপথ নেয়ায় সুলতান মনসুরকে গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর আগামী ২০ এপ্রিল দলের নির্বাহী কমিটির সভায় মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে গণফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গণফোরামের দুই নেতার শপথের পরই মূলত বিএনপির ৬ নেতার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্য। তারা হলেন, বগুড়া-৬ আসনের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসনের মোশারফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশিদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। এছাড়া বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শপথ প্রসঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের চাপ রয়েছে বলে জানিয়ে দলকে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ করেন বিএনপির পাঁচ নির্বাচিত জন প্রতিনিধি। বৈঠকে নির্বাচনী এলাকার জনগণের বরাত দিয়ে পাঁচ এমপিই সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তারা বলেন, চরম প্রতিকূল পরিবেশে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংসদে যেতে তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ রয়েছে-এটা সত্য। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তারা শপথ নেবেন। এক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত তারা একমত।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে শপথের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চিঠি দিয়ে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা গুলশান অফিসে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করেছি।’

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার বিষয়ে নিজ  নিজ এলাকার জনগণের চাপ আছে, এটা সবাই বলেছেন। কিন্তু আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না, এ ব্যাপারে সবাই একমত।’

তিনি বলেন, বৈঠকে শপথের ব্যাপারে আমরা আমাদের মতামত তুলে ধরেছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন দলের হাইকমান্ড। এরপর আমাদের তা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ থেকে বিজয়ী বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হারুনুর রশিদ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সবাইকে দলের মহাসচিব ডেকেছিলেন। কিছুদিন ধরে সংবাদমাধ্যমে তাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা সংবাদ প্রচার হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের সবাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা বিভ্রান্ত না হন এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে না যান।

তিনি বলেন, চরম প্রতিকূল পরিবেশে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে এটা তুলেও ধরেছেন। তবে এক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা একমত, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে নির্বাচিত জেলা বিএনপির সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, শপথের ব্যাপারে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই তারা মেনে নেবেন। তাদেরকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন দলের হাইকমান্ড।

এদিকে গত রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেন।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি নেতারা তার স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আকারে-ইঙ্গিতে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসেন। তবে বেগম জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

খালেদা জিয়া নেতাদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মিথ্যা। আদালতে সুবিচার পেলে তিনি এতদিনে সব মামলা থেকে রেহাই পেতেন।

দলের নির্বাচিত এমপিরা জাতীয় সংসদে শপথ নেয়ার বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও নেতাদের বলেন, এ সংসদে গিয়ে লাভটা কী হবে? সংসদের বাইরেও অনেক ভূমিকা পালন করা যায়।

খালেদা জিয়ার প্যারোল প্রসঙ্গে গত সোমবার মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্যারোল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। প্যারোল আমাদের দলের বিষয় নয়। এটা বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পরিবারের বিষয়।

তবে এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রচার-প্রকাশিত হচ্ছে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়া প্যারোলে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *