আমার নিষ্পাপ বাচ্চাকে এক মিনিটেই মেরে ফেলল তাদের একদিনও বেঁচে থাকার অধিকার নেই

যারা আমার নিষ্পাপ বাচ্চাকে এক মিনিটেই মেরে ফেলল তাদের একদিনও বেঁচে থাকার অধিকার নেই। আমি তাদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানাই। আগামীকাল শুক্রবার ওর জন্মদিন, সব আয়োজন ছিল, কিন্তু এখন সবই শেষ। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে কথাগুলো বললেন দোলার মা পারভীন আক্তার।আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে মেয়ের খুনির দ্রুত ফাঁসির দাবি জানিয়ে কথাগুলো বলেন তিনি।

গত সোমবার ডেমরায় একটি ফ্ল্যাট থেকে দোলা ও নুসরাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বুধবার তাদের হত্যাকারী গোলাম মোস্তাফা ও তার খালাতো ভাই আজিজুল বাওয়ানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।পারভীন আক্তার বলেন, দোলার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। শুধু মেয়েকে ভালোভাবে মানুষ করার জন্য আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করি। ওর জন্য ব্যাংকে গত বছর ডিপিএস খুলেছি। কিন্তু ওরা আমার ছো্ট্ট নিষ্পাপ বাচ্চাটারে মাইরা ফেলল এক মিনিটেই।তিনি কেঁদে কেঁদে সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ে নাই, আমার জীবনের অন্য কিছু চাওয়া পাওয়াও নাই।

আমি বিচার চাই। আমার মেয়েকে যে খুন করেছে সে এই পৃথিবীতে একদিনও বেঁচে থাকুক, তা আমি চাই না। আমাদের সন্তানরা কি ঘরের সামনেও খেলতে পারবে না? এ কেমন সমাজ, এতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারবে না বাচ্চাদের?শোকে স্তব্ধ দোলার বাবা ফরিদুল ইসলাম কান্না চেপে বলেন, মেয়েটাকে ভালোভাবে মানুষ করব বলে আর বাচ্চা নেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেলাম। গতকাল বুধবার আমার বাচ্চার জন্মদিন ছিল।

মেয়ে আবদার করেছিল, একটা বড় কেকে কিনে দিতে। আর তার মাকে বলেছিল বড় পুতুল কিনে দিতে। দুইজনে চাকরি করি বলে এই শুক্রবার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম। নতুন স্কুল ড্রেস বানাতে দিছি, নতুন ব্যাগেরও আবদার করেছিল দোলা। শুক্রবার সব কিনে দেবো বলেছিলাম। সেই স্কুল ড্রেস-নতুন ব্যাগ দিয়ে কী করব?মানববন্ধনে দোলার দেখাল সাথী, এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *