‘অর্থ পাচার নয়, আমি নিজেই বিদেশ থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে এসেছি’

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুনবাগিচায় কমিশন কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। তার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগ রয়েছে বলে দুদক জানিয়েছে। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।

সোমবার বিকালে আবদুল আউয়াল মিন্টু দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিজেই বিদেশ থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আমি এমন বাংলাদেশি যে, ১২ বছর বিদেশে পড়াশোনা করে, চাকরি করে, ব্যবসা করে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিরে এসেছি। আমার ছেলে, নাতি-নাতনি সব বাংলাদেশে, তাহলে কেন আমি বিদেশে অর্থ পাচার করবো? এর কি কোনো যৌক্তিকতা আছে? কার জন্য আমি অর্থপাচার করবো? বিদেশেতো আমার কেউ নেই। আমার যা আছে সব বাংলাদেশ আছে।

যেসব অভিযোগের জন্য দুদক আমাকে ডেকেছে, তার সঙ্গে অবশ্যই জড়িত নই আমি। আমার জন্য এটা নতুন কিছু না। দুদক আগেও তদন্ত করেছে, এখনো করছে। আমার পরিবারের সদস্যের তদন্ত করছে, তারাও এসেছে, আমরা আসতেই থাকব। কোনো অসুবিধা নেই। যতবার ডাকবে ততবার আসব। আমি দুদকে আসতে কোনো সময় চাইনি, কেন সময় চাইব? কী করেছি যে আমাদের সময় চাইতে হবে?

ভুয়া অডিট রিপোর্ট তৈরি করে ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে ঋণগ্রহণ, শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি ও বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে আবদুল আউয়াল মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলম।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশে বহু জিনিস ওভারকাম করে এসেছি। যেটা সত্য সেটাই প্রমাণিত হবে বলে মন্তব্য করলে সাংবাদিকরা জানতে চান কোনটা সত্য। জবাবে হাসিমুখে মিন্টু বলেন, সত্যটা হলো আমি হাসতেছি, দেখে আপনারা বুঝলেন না! আমি যে হাসি-খুশি আছি। তাতো আপনাদের বোঝা উচিত যে, আমি কোনো কিছুকে এখন কোনো কিছু মনে করি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *